এক ঘরের পরকীয়া দেখে অন্য ঘরের লোকজন উৎসাহিত হয়

এখানে ‘ঘর’ বলতে ফ্যামিলি বা পরিবার বুঝাচ্ছি। এক ফ্যামিলির লোকজন যখন নিজেদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক (যেমনঃ দেবর-ভাবীর প্রেম) করে, তখন সেটা দেখে অন্য ফ্যামিলির লোকজন অনুরূপ কর্মকাণ্ড করতে উৎসাহিত হতে পারে। এ নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই বিষয়টি উপস্থাপন করতে বাধ্য হলাম।

আমি আগে বউ নিয়ে বাবা-মা’র সাথে থাকতাম। সেখানে আমাদের সাথে আমার অন্য দুই ভাইও ছিল, যাদের মধ্যে একজন বিবাহিত এবং অপরজন অবিবাহিত। তারা এখনো বাবা-মায়ের সাথে বহাল তবিয়তে আছে, তবে আমি আর থাকতে পারলাম না। এমন একটা প্যাঁচে পড়ে গেলাম, যে প্যাঁচের উৎপত্তি হয়েছিল আমাদের পাশের ফ্ল্যাট বা পরিবার থেকে, যেখানে সেতুরা বাস করতো। জায়গাটি ছিল রামপুরার কোনো একটি এলাকায়। উল্লেখ করা যেতে পারে, সেতুদের দেশের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। বর্তমানে তারা কেরানীগঞ্জে নিজেদের কেনা জায়গায় তৈরি একতলা বাড়িতে বসবাস করে।




তাদের ছোট পরিবার। আগে যখন তারা আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকতো, তখন প্রায় সময়ই তারা এক রুম সাবলেট দিয়ে সেখানে বসবাস করতো। সেতু আর শুভ দুই ভাই, তারা বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। তাদের মা’র নাম সেলিনা এবং ছোট কাকার নাম কাইয়ুম। এই কাইয়ুম এবং সেলিনার মাঝে একটি পরকীয়া বা অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ছিল, যা ঐ বিল্ডিং-এর অনেকেই জানতো, আবার জেনেও না জানার ভান করতো। এর মধ্যে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য ছিল আমার মা এবং বাড়িওয়ালনি শবনম আন্টি। তাদের কাছে এমনকি সেলিনার স্বামীর কাছেও ব্যাপারটা ছিল নিতান্ত সাদামাটা, অত্যন্ত স্বাভাবিক, যেন এমনটা হতেই পারে।আমারও তাতে কোনো আপত্তি থাকতো না, যদি না তাদের পরকীয়া সম্পর্কের কালো ছায়া আমার জীবনে না আসতো। সেতুর বাপ অর্থাৎ সেলিনার স্বামীকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো, ‘আপনি এই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছেন কেন?’ তাহলে নিশ্চয়ই উত্তর আসবে, ‘আমি কবে মরে যাই, তার ঠিক আছে? আমি মারা গেলে আমার বাচ্চাগুলাকে দেখবে কে?’

তার কথায় একটা যুক্তি আছে বৈকি। তবে এ ধরনের সম্পর্ককে কি ইসলাম বৈধতা দেয়? মনে হয় না। অনুশোচনার ব্যাপার হলো, যারা কিনা দেশে এসব অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে, তারাই আবার ধর্মকর্মের নাম মুখে বেশি বেশি নেয়। বিশেষ করে আমাদের দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা বেশি। আর হিন্দুদের কথা না হয় নাই বললাম, তাদের ধর্মে নাকি নগ্নতা ও অবাধ যৌনাচারের বৈধতা আছে!



সেলিনা আর তার দেবরের মাঝে কী দেখেছি, সেটা একটু খুলে বলি। ঐ বাসার সাবলেটদের সাথে যদি দেখা করতে যেতাম, তখন প্রায়ই দেখতাম, কাইয়ুম আর সেলিনা এক রুমে দরজা বন্ধ করে কী যেন করছে! তখন সেলিনার ছেলে দু’টো স্কুলে এবং তার স্বামী অফিসে। আমি এমনও দেখেছি যে, সেলিনার কামিজ প্রায় বুক পর্যন্ত উঠানো এবং সেখানে কাইয়ুম কিছু একটা করছিলো। হয়তো কামিজটা আসলে গলা পর্যন্ত উঠানো ছিল এবং কাইয়ুম তার ‘কাম’ চালিয়ে যাচ্ছিলো, আমাকে দেখে তাড়াতাড়ি সে কামিজ নামিয়ে দেয়। তবে তাড়াহুড়ার ফলে সেলিনার ফর্সা পেট আর কোমর অবাধে দেখতে পাই।

যাই হোক, যেটা বলছিলাম – আমাকে দেখে সেলিনা তার দেবরের সাথে কপট রাগ দেখায়, এমন ভান করে যেন, এসব কিছু কাইয়ুম জোর করে করেছে এবং সে সতী-সাবিত্রী। তবে মেয়ে ও মহিলাদের এ ধরনের অভিনয় সম্পর্কে আমি আগে থেকেই অভিহিত ছিলাম।

এবার আসল কথায় আসি, কীভাবে তাদের পরকীয়া সম্পর্কের কালো ছায়া আমার জীবনে নেমে এসেছিল। আসলে আমার ছোট ভাই ইকবালও সেলিনা ও তার দেবর কাইয়ুমের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল, এ নিয়ে প্রায়ই সে আমার সাথে আলাপ করতো। আমিও সে আলাপ পাশ কাটিয়ে যেতে পারতাম না, কারণ এসব বিষয় বাবা বা মা’র সাথে সে শেয়ার করতে পারতো না। বিশেষ করে, মা’র কাছে তো এ বিষয়ে মুখই খোলা যেত না, তিনি প্রচণ্ড মাইন্ড করতেন, কখনো অস্বীকার করতেন, আবার কখনো স্বীকার করলেও বিষয়টি সেলিনাদের পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে দাবী করতেন।

আমার মা যেহেতু আমাদের পরিবারের ‘প্রাইম মিনিস্টার’ ছিলেন, তাই তার কথার উপর কথা বলতে পারতাম না। যাই হোক, ঘটনা হলো এই যে, একদিন বাসায় একা পেয়ে আমার বউকে আমার সেই ছোট ভাই যৌন হেনস্থা করার চেষ্টা করে, আমার বউ তাতে সাড়া না দেয়ায় এবং বাধা দেয়ায় তাকে বেদম প্রহার করে আমার সেই ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ ভাই। তাকে অসুস্থ বললাম এই কারণে যে, আশেপাশে এত অনিয়ম দেখে সে সুস্থ মানসিকতাসম্পন্ন থাকতে পারে নি নিশ্চয়ই। এজন্য সেলিনাদের পরিবারকে দায়ী না করে পারছি না। পরবর্তীতে আমার বউ এবং ছোট ভাইয়ের দ্বন্দ্ব এত প্রকট আকার ধারণ করলো যে, বউ নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে বাধ্য হলাম। আফটার অল, নীতিগতভাবে বলেন আর ঘটনাগতভাবেই বলেন, এখানে আমার ছোট ভাইও কম দায়ী নয়। প্রবাদ আছে, ‘আপনি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?’



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.