উচ্চশিক্ষিত মেয়েরাও ভালোই ছিনালি করতে পারে

উচ্চশিক্ষিত মেয়েরাও ভালোই ছিনালি করতে পারে – এটা অনেক আগের কথা। আসলে এই আর্টিক্যালটির শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল, ‘দুনিয়াতে কেউই নিরীহ বা নিষ্পাপ নয়’। যার কথা বলছি তার নাম ফারহানাহ চৌধুরি। সে কি আদৌ সত্যিকার চৌধুরি নাকি ‘ফটকা চৌধুরি’ (যেমনঃ পাটওয়ারি থেকে চৌধুরি) বংশের লোক – সে নিয়ে আমার সংশয় আছে। তবে পড়াশুনা করেছে সে ভালো জায়গা থেকেঃ বুয়েট ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স।

দেখতেও সে বেশ নিরীহ ও মায়াবী চেহারার। এমন একটি চেহারার মেয়ে আমার সাথে শুধু ছিনালি নয়, বরং ক্ষতিও যে করবে – সেটা ঘুণাক্ষরে ভাবতে পারি নি আমি। ছিনালিটা হলো এইরূপঃ সে আমাকে প্রেম ও পরকীয়ার লোভ দেখিয়ে পরবর্তীতে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। এ রকম পরিস্থিতির স্বীকার হলে অন্য আট-দশ জন ছেলে যা করে, আমিও তা করেছিলাম – তাকে গালাগালি করেছিলাম মেসেঞ্জারে। প্রতিশোধস্বরূপ সে আমার অন্য একটি ব্লগ গুগল থেকে ডিইনডেক্স করে দিলো।




সে নিজে হয়তো করে নি, কারণ এ ব্যাপারে সে এক্সপার্ট হওয়ার কথা নয়। তবে তার স্বামী বা অন্য কোনো পরকীয়া প্রেমিক দ্বারা এটি করিয়েছে। সে-ই যে করিয়েছে, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কারণ যখন (৩ মার্চ এ বছর) থেকে আমার সেই ব্লগের ভিউসংখ্যা ব্যাপকহারে কমতে থাকে, তার ছয়মাস আগে বা পরে কারো সাথে আমার কোনো বিবাদ হয় নি, শুধু সে ছাড়া।

সে আসলে আমার ইন্টেলেকচুয়াল লেভেল নিয়ে ঈর্ষাণ্বিত ছিল; ভাবতো, সেও কেন আমার মতো কোনো এক্সট্রা-অর্ডিনারী কিছু করতে পারে নি। আমার সেই ব্লগের আর্টিক্যালগুলো বিভিন্ন দেশের ইংরেজি জানা লোকেরা পড়তো, যে কারণে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে আমি নিজেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্লগার’ হিসেবে দাবী করতাম।

ফারহানাহ’র সাথে ঘটনাসমূহের পরম্পরা

ফারহানাহ আসলে ইউনিভার্সিটিতে আমার ডিপার্টমেন্টাল জুনিয়র, ৬ বছরের। আমি ছিলাম একজন ল্যাগার। ল্যাগার হলো সেই সকল স্টুডেন্ট যারা নিজের ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের সাথে পাশ করতে ব্যর্থ হয় এবং জুনিয়র ব্যাচের স্টুডেন্টদের সাথে পড়াশুনা করে পাশ করে বা পাশ করার চেষ্টা করে। ফারহানাহদের সাথে আমার একাধিক কোর্স ছিল। সে মারাত্মক সুন্দরী না হলেও আকর্ষণীয় ও মায়াবী চেহারার অধিকারী ছিল, যে কারণে তাকে ‘লক্ষী মেয়ে’ বলে ভ্রম হয়েছিল।

আমি আগে থেকে বিয়ে না করে থাকলে তাকে অবশ্যই প্রেম বা বিয়ের অফার দিতাম। কিন্তু যেহেতু আমি আগে থেকেই বিবাহিত, তাই দূর থেকে শুধু তাকে দেখে দেখে ‘ঢোক’ গিলতাম, ঠিক যেমনটি গরীবের শিশু দোকানের দামী খাবার দেখে করে থাকে। ২০১১ সালের শুরুর দিকে তাদের ব্যাচের সাথে আমি পাশ করে যাই, পরে তাকে প্রায় এক বছর ধরে দেখি নি।

এরপর ২০১২ এর শুরুতে শান্তিনগরে অবস্থিত একটি গাইডবুক পাবলিকেশন্স-এর আরএন্ডডি ডিপার্টমেন্টে জয়েনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত একটি ইন্টারভিউতে তার সাথে দেখা হয় আমার। ঐ সময় তার সাথে সামান্য আলাপ হয়, তবে লিখিত পরীক্ষার সময় আমার পাশে বসে আমারটা দেখে কপি করে। তাতে করে আমার বদলে চাকুরি হয় তার, আর আমি হয়ে যাই ‘ফ্রিল্যান্সার রাইটার’। তাও তার প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ থাকতো না, যদি সে আমার ‘ইন্টেলেকচুয়াল সুপেরিয়রিটি’ মেনে নিত এবং আমাকে কাজ না দিয়ে একঘরে করে রাখার নীতি গ্রহণ না করতো।



সে আমার সাথে অফিস পলিটিক্স করলেও এ নিয়ে সরাসরি কোনো বিবাদে যাই নি তার সাথে, আফটার অল তাকে কম-বেশি ভালো লাগতো আমার। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের মার্চে সে তার এক ক্লাসমেটকে বিয়ে করে এবং আগস্ট মাসে ঐ পাবলিকেশন্স ছেড়ে চলে গিয়ে তার স্বামীর বদৌলতে একটি ইলেকট্রনিক্স ডিজাইনিং কোম্পানীতে যোগ দেয়।

এরপর থেকে পাঁচ বছর ধরে সে মোটামুটি নিখোঁজ ছিল, মানে হলো সে আমার সাথে যোগাযোগ রাখে নি, আর আমিও রাখি নি। আর মাগি ব্যাপক অহংকারী ছিল, ফেসবুকে আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কখনোই এক্সেপ্ট করে নি। তবে এই ব্লগে আমার লেখালেখি পড়ে হয়তো সামান্য চমৎকৃত হয়েছিল, তাই মেসেঞ্জারে আমার সাথে যেচে এসে সামান্য আলাপ শুরু করেছিল। কিন্তু রিপ্লাই দেয়ার ব্যাপারে এত কিপটেমি বা গেইম শুরু করলো যে, তার সাথে ‘মেসেঞ্জার চ্যাট’ বন্ধ করে দিলাম।

তবে এ বছরের শুরুতে আমার মাথায় মনে হয় পোকা ভর করেছিল, তাই তাকে মেসেঞ্জারে সরাসরি বলে বসলাম, ‘তোমাকে আমার ভালো লাগে, নায়িকা কোয়েল আর রাকুল প্রীত সিং কে দেখলে তোমার কথা মনে পড়ে।’ সে জিজ্ঞেস করলো, ‘এসব কথা এখন বলছেন কেন?’ আমি বললাম, ‘জানি না, মনে হলো, তোমাকে এসব কথা জানানো দরকার, তাই জানিয়ে দিলাম।’

মেয়েটা সুবিবেচক হলে তখনই বলতে পারতো, ‘আমি তো বিবাহিতা, আমাকে এখন আর এসব কথা বলে লাভ নেই’। তার বদলে সে বললো, ‘যেকোনো সম্পর্ক গড়তে হলে আগে তো জানাশোনা থাকতে হয়, তাই না? আপনার সম্পর্কে আমাকে ব্যাপকভাবে জানান।’ এ উত্তরের মানে কী, আপনারাই বলেন। এর মানে এই নয় কি, ‘আগে আপনার সম্পর্কে জেনে নিই। পরে জানাব, আপনার সাথে কোনো প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কে যাওয়া যায় কিনা’? অন্ততঃ আমি তা-ই বুঝলাম। আমি আমার সম্পর্কে সবকিছু মেসেঞ্জারে লিখে লিখে জানালাম।

আমার দু’-একটা ফ্র্যাংক উত্তরে সে বেশি খুশি হতে পারলো না। যেমনঃ যখন আমি উল্লেখ করলাম, ‘অমুক দিন তুমি খুব সেক্সি একটা ড্রেস পড়ে এসেছিলে, তোমাকে ইচ্ছে করছিলো চুমু খেতে বা জড়িয়ে ধরতে।’ একথা শুনার পর সে একগাদা লেকচার দিল মেসেঞ্জারে। যেমনঃ ‘সে চৌধুরি বংশের মেয়ে, সে অনেক ভালো পরিবেশে বড় হয়েছে, এ ধরনের চিন্তা একজন মানুষ কী করে করতে পারে, সেটাই সে ভেবে পায় না’ – ইত্যাদি ইত্যাদি।

এরপরেই সে ধীরে ধীরে শীতল আচরণ করতে শুরু করে। পরে যখন আমি তার সম্পর্কে জানতে চাইলাম, তখন সে কোনো কিছুই জানালো না। এমনকি অনেক অনুরোধ করে বললাম, আসো দুজনে একদিন দেখা করি, কিছুক্ষণ সময় কাটাই (সামনাসামনি আলাপ করি)। তাতেও সে রাজি হলো না, বুঝলাম সে শুধু আমার সাথে একটু টাইমপাস করেছে। তখন তাকে গালাগালি না করে পারলাম না। কিছুদিনের মধ্যেই সে আমার অপর ব্লগের ডিইনডেক্স ঘটায়, যা আমাকে অনেক আশাহত করেছে। তাই পাঠক বন্ধুদের কাছে আমার পরামর্শ, দুনিয়াতে কাউকে নিরীহ বা নিরাপদ মনে করবেন না, সবসময় বুঝেশুনে চলবেন, আগেই সব বিলিয়ে দিবেন না।



পরকীয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কিনা, নিজেই দেখে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.