ঈমানদারদের পরকীয়া

ঈমানদার চোর যেমন আল্লার নাম নিয়া চুরি শুরু করে
ঈমানদার ঘুষখোর যেমন আল্লার নাম নিয়া ঘুষ খায়
ঈমানদার দুর্নীতিবাজ যেমন আল্লার নাম নিয়া দুই নম্বরী শুরু করে
ঠিক তেমনি অনেক নামাজি আছে যারা আল্লার নাম নিয়া পরকীয়া করতে যায়
আর পরকীয়া শুরু করে।

আমি যেখানে থাকি সেখানেই এরকম ভুরিভুরি উদাহরণ আছে
যেমনঃ প্রতিবেশী স্বপ্না ভাবী, কুটনি বুড়ি শামসুন্নাহারের পৌঢ়া মেয়ে কোহিনূর
আর আছে যুবলীগ নেতা সোহেল ভাই
যে সবসময় মাথায় টুপি দিয়া ঘোরে
আরো আছে অদূরেই এক মসজিদ কমিটির সদস্য মোশাররফ ভাই
সে যুবলীগ করে আর বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বান্ধবী নিয়া অন্যের বাসায়
পরকীয়া করতে যায়।

স্বপ্না ভাবী, সামসুন্নাহার আর তার মেয়ে কোহিনূর
ইসলামী তালিমে যায়
সেখানে তাদেরকে তালিম শোনায় পেটে টিউমার ওয়ালা যুথি ভাবী
সম্ভবতঃ মৃত্যুভয় তাকে পেয়েছে
তাই সে তালিম করে বেড়ায়
স্বপ্না, সামসুন্নাহার আর কোহিনূর ঠিকমতো নামাজ পড়ে কিনা জানি না
কিন্তু চাপে পড়ে লোক দেখাতে সময়মতো তালিমে যায় ঠিকই।

স্বপ্নার স্বামী অন্য শহরে কাজ করে
আর স্বপ্না এখানে বারেকের সাথে উষ্ণ রাত্রি যাপন করে
ভোরবেলা তার ঘর হতে বারেককে বের হতে দেখে আমার বউ
কিন্তু কিছু বলার জো নেই
কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলে তার সাঙ্গপাঙ্গরা দাঁত
আর নখ দিয়ে যদি আক্রমণ করতে আসে!

তালাকপ্রাপ্তা ৪২ বছরের মহিলা কোহিনূরের যৌনক্ষুধা এখনো যায় নাই
সে তার ফুফাতো বোনের জামাই রহিমের সাথে গভীর রাতে পরকীয়ায় মেতে ওঠে
তার নিজেরই বাসায়
আর তার বুড়ি মা সামসুন্নাহার
নামাজ পড়ে দোয়া করে
যাতে তার মেয়ে আর ভাগ্নে রহিম নির্বিঘ্নে পরকীয়া চালিয়ে যেতে পারে।
তালাকপ্রাপ্তা মেয়েটাকে কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে দেওয়া যায় কিনা
সে গবেষণা করতে থাকে
দরকার হলে ভাগ্নে রহিমের সংসার ভাঙ্গবে
অথবা অন্য কোনো পুরুষের
তবু বুড়ো বয়সে মেয়েটার খাওয়া-পড়ার ব্যবস্থা করবে সে।

আর কোহিনূর, সে তো এক আজব ক্যারেকটার
বয়স ৪২ হলেও তাকে ৬৫ বছরের বুড়ির মতো দেখায়
চেহারা, চামড়া আর স্তন সবই ঝুলে গেছে তার
তবু সে মন্ত্রীর ছেলের সাথে বিয়ের স্বপ্ন দেখে।
মা-মেয়ে মিলে এলাকায় কুটনামি করে বেড়ায়।

যুবলীগ নেতা সোহেল ভাই তার অফিসে পতিতা নিয়ে যায়
আর বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ফূর্তিতে মেতে ওঠে
এলাকায় নতুন কেউ বাড়ি করলে
সে বাড়ির মহিলাকে বিছানায় নেবার চেষ্টা করে
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে সফলকাম হয়।
আর এলাকার নতুন মহিলারাও স্টাবলিশ হওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের শরীর পেতে দেয়
আনলেস তারা নিজেরাই যদি যথেষ্ট পাওয়ারফুল হয়
লাইক মাই ওয়াইফ
তার ভাই আর ভাইয়ের বউ দু’জনেই বিসিএস ডাক্তার
আর আরেক ভাই দু’-এক বছরের মধ্যেই জজ-ব্যারিস্টার হবে।

এছাড়া আমার নিজেরও পাওয়ারফুল নেটওয়ার্ক আছে
যখন লাগবে তখন ইউজ করবো।
উদাহরণস্বরপঃ সোহেলের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়ারফুল যুবলীগ নেতা পকেটে নিয়া ঘুরি।

সেসব পাওয়ারফুল নেতাদের একজন হলো মোশাররফ
পরকীয়া করাই তার নেশা
এর সাথে, ওর সাথে, ভাগ্নের লেডি টিচারের সাথেও শুয়েছে সে
আমার বাসায়ও সেমি-পতিতা নিয়ে এসেছে
ঈমানদারেরা যদি এসব করতে পারে
তাহলে আমি পারবো না কেন? (আমি তো নাস্তিক)
আমিও ঐ মহিলার উপরের দিকটা চেটেপুটে খেয়েছি

সবটাই দিতো আমাকে
তবে আমাকে তার বেশি পছন্দ হয়েছিল
তাই সে বিধবা মহিলা আমাকে
বিয়া করার প্ল্যান করলো
আমিও ঝানু আদমি
দ্বিতীয় বিয়ে যদি করতেই হয়
তাহলে তার মতো ‘ঝুলে’ যাওয়া মহিলাকে কেন?
কয়েক বছর পর তো সে আর ‘ওসব’ করতেই চাইবে না
যখন ঋতুস্রাব চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে
তখন শারীরিক সম্পর্ক শিকেয় তুলে দিয়ে
অতীতে করা সব পরকীয়ার জন্য আল্লার কাছে
দু’হাত তুলে মাফ চাইবে
আর আল্লা তো অসীম দয়াময় তিনি হয়তো
তা মাফ করে দিবেন

মাফ করবেন না কেবল আমার মতো নাস্তিকের নামাজ না পড়া
আর আল্লাকে অস্বীকার করার ব্যাপারটা
অদূরের এক মসজিদ কমিটির সদস্য মোশাররফও একসময়
এসব পরকীয়া, আর আকাম-কুকাম বাদ দিয়ে স্ট্রিক্ট নামাজি হয়ে যাবে।
অার আল্লার কাছে তওবা করবে।

ফ্র্যাংকলি, পরকীয়া করাটাকে আকাম-কুকাম মনে করি না আমি
একটা পুরুষাঙ্গ আর একটা যোনি যদি ঘষাঘষি করে মজা পায়
আর এতে যদি তৃতীয় পক্ষের কোনো ক্ষতি না হয়
তাহলে সেটা করতে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা হলো – ইসলামসহ অন্যান্য অনেক ধর্মই তো এসব করতে মানা করেছে
তাহলে একই সাথে নামাজি হওয়ার ভান করা আর পরকীয়া করা কেন?

আসলে এরা তো সাচ্চা মুসলমান বা ধার্মিক নয়
এরা হলো শো-অফ, লোক দেখিয়ে বেড়ায়
ধর্মের লেজ ধরে ঝুলে থাকা এদের প্রয়োজন
চাকুরি-ব্যবসা, বাণিজ্যের জন্যে
আর মেয়ে-বোনকে বিয়ে দেয়ার জন্যে
আর অসহায়দেরকে অত্যাচার করার জন্যে
যাতে কথায়-কথায় ফতোয়া দিতে পারে

এসব মুনাফিকদের কারণেই আমি নাস্তিক বা কাফের হয়েছি
আমাকে নাস্তিক বা কাফের বলে গালি দেন
তবু আমাকে মুনাফিক বইলেন না
মুনাফিক ডাক যাতে শুনতে না হয়
তাই আমি মুনাফিকদের বিপরীত স্রোতে চলি
যেমন, তারা নামাজ-রোজা পড়লে আমি সেগুলো পড়ি না
তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি করেও যদি তারা বেহেশতে যায়
তাহলে আমি যাব না কেন?
আমার নামাজ-রোজা না পড়ায় তো কারো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, তাই না?

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.