অনন্ত জলিলের প্রস্তাবে রাজীবের খালার সম্মতি

দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী এবং নায়ক অনন্ত জলিল।

জন্মদিনে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে মৃত রাজীবের খালা জানিয়েছেন, এতে তাদের আপত্তি নেই। তারা ঢাকায় ফিরে অনন্ত জলিলের সঙ্গে দেখা করবেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত নামের একটি দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান (১৩) ও আবদুল্লাহ (১১)। তারা কোরআনে হাফেজ। মাদ্রাসার পাঠ চুকিয়ে হাসান সপ্তম শ্রেণিতে ও আবদুল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। আগেই মারা গেছেন মা-বাবা, এবার হারালেন মাথার ওপর একমাত্র ছায়া ভাইকে।

রাজীবের মেঝ খালা খাদিজা বেগম লিপি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমাদের আপত্তি নেই। তবে এখন আমরা গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছি। রাজীবের দাফন কাজ সম্পন্ন করতে। রাজীবের দুই ভাই আমাদের সঙ্গেই আছে। ঢাকায় ফিরে আমরা কথা বলতে চাই অনন্ত জলিল সাহেবের সঙ্গে। উনার আগ্রহের জন্য উনাকে ধন্যবাদ।’

রাজীবের মেঝ খালা খাদিজা বেগম লিপি

অনন্ত জলিল মঙ্গলবার তার পোস্টে লেখেন, বন্ধুগন, আসসালামু আলাইকুম। আজকের দিনে আল্লাহ্তায়ালা তার সুন্দর ধরণী আর সুন্দর সুন্দর সৃষ্টির মাঝে আমাকে পাঠিয়েছেন, আজ আমার জন্মদিন , তাই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ্। রাব্বুল আলআমিনের নিকট আমি কৃতজ্ঞ, এ কারণে যে এমন আনন্দের দিনে তিনি আমাকে স্বপরিবারে মক্কায় অবস্থান করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে মন খারাপ আরেক কারণে, ….. কিছু দিন আগে বাস দূর্ঘটনায় রাজিব নামে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তার হাত হারিয়ে ছিলেন। এবং আজ তিনি পৃথিবী হতে বিদায় নিয়েছেন। যা আমাকে বেশ মর্মাহত করেছে। বাবা-মা হারা এই সন্তান তার ছোট দুই ভাইকে পিতা-মাতার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছিলো। কিন্তু রাজিবের অকাল বিদায়ে তার দুই ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমার জন্মদিনে আমি চাচ্ছি যে পরিবার হারা এই দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে।’

রাজীবের খালার সম্মতির বিষয়ে অনন্ত জলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঢাকায় রাজীব হোসেন যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন। পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন স্বজনদের সহযোগিতায়। রাজীবের মা-বাবা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। রাজীব টিউশনি করতেন এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দুটির মাঝখানে পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিলো। সোমবার মাঝরাতে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.