অতীতের কোনো কথা নয়, বর্তমানের কথা

তাবিতা রহমান খান অতীতের কোনো ছাত্রী নয় আমার, বর্তমানে তাকে পড়াচ্ছি। আর আমার চরিত্রে সমস্যা থাকায় (সহজ-সরল স্বীকারোক্তি) অতীতের বেশিরভাগ ছাত্রীর মতো এর প্রেমেও পড়েছি। তবে প্রেমটা দৈহিকের চেয়ে মানসিক বেশি, অর্থাৎ তার সাথে এখনই সেক্স করার তীব্র বাসনা নেই আমার, শুধু একটু হালকা-পাতলা দৈহিক সংস্পর্শ হলেই চলবে।




কিন্তু সমস্যা হলো সেটাও জুটছে না আমার কপালে। প্রথম কারণঃ বয়সের বিশাল ব্যবধান, আমার ৩৮ আর তার বয়স মাত্র ১৬। তার মা হয়তো আমার চেয়ে ৩-৪ বছরের বড় হবেন আর বাবা মানে মোহন মেম্বার আমার চেয়ে প্রায় ৭-৮ বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের বড় হবেন। তবে ওনার সম্ভবতঃ ডায়াবেটিস আছে, তাই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বয়ষ্ক দেখায়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার তিনি, তার মানে পলিটিক্যাল ফিগার। আর অন্য দিকে মাত্র বছর খানেক আগে ৩নং ওয়ার্ডে একটি ছোটখাট বাড়ি করেছি আমি। যদিও ঐ মেম্বার সাহেবের আন্ডারে নই আমি, তবুও তার প্রভাবমুক্ত নই। কারণ আমার ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার সাহেব নিশ্চয়ই তার কলিগ হন।

আর ছাত্রীরও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিকের তুলনায় কম; ক্লাস টেনের ছাত্রী হলেও তার পিতা-মাতা তাকে মোবাইল ইউজ করতে দেয় না, তাই পেকে যাওয়ার সুযোগ পায় নি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চিত আমি – সে আমাকে পছন্দ করে, কিছুটা টিচার হিসেবে, কিছুটা পুরুষ হিসেবে। প্রথম দিকে ওর এবং ওর মায়ের ধারণা ছিল আমার বয়স বেশি নয়, তাই ঐ সময় তাবিতা আমার সাথে বেশি ফ্রি এবং আকৃষ্ট ছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সে, বিশেষ করে তার মা বুঝে ফেলে যে, আমি অর্ধবুড়ো ভাম। আর তাই ঐ ভদ্রমহিলা সম্ভবতঃ তার একমাত্র মেয়েকে সাবধান করে দেন। আফটার অল, তার অভিজ্ঞ চোখ আমার চোখমুখের ভাষা বুঝতে বেশি সময় নেয়ার কথা নয়।

তাছাড়া ভ্যালেনটাইনের মাসে কথা প্রসঙ্গে তাবিতাকে আমি পুরনো দিনের কিছু কথা, যেমনঃ বিয়ের পরও ফারিজা বিন্তুর সাথে প্রেম করেছি – এসব কথা বলেছি। আর সে তা আমাকে না জানিয়েই অর্থাৎ আমার অনুমতি না নিয়েই তার মাকে বলে দিয়েছে। ফলে তার মাও বুঝে গিয়েছে, ‘এই অর্ধবুড়ো টিচারটা বোধ হয় আমার কিশোরী মেয়ের সাথে প্রেম করতে চায়, নইলে বিয়ের পরে প্রেমের মতো পরকীয়ার কথা কচি মেয়েটাকে বলবে কেন?’

তবে আমি এখনো হাল ছাড়ি নি, তাবিতার সাথে লাইন মারার আশায় বসে আছি। তবে আমার বিবেকও এক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে। ২০১১ সালে যখন আমার বয়স ৩০ বছর, তখন ১৫ বছরের মেয়ে জেনিকে (আমার ছাত্রী ছিল) সরাসরি প্রেমের প্রস্তার দিয়েছিলাম, ওর মায়ের দেখে ফেলার পরোয়া না করেই ওর হাতে চুমু খেয়েছি, এমনকি ভ্যালেনটাইন ডে’তে ওর মা কিছুক্ষণের জন্য ওকে একলা রেখে যাওয়ায় জেনিকে জোর করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছি (যদিও অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য)।

তবে এটা তো আর ২০১১ সাল নয়, আর আমিও ৩০ বছরের যুবক নই। যদিও সে সময়ও আমি বিবাহিত ছিলাম। আমি আসলে ২০০৬ সালে বিয়ে করেছি, আর আমার সেই অপছন্দের ঝগড়াটে বউ মুক্তা এখন পর্যন্ত আমার গলায় আটকে আছে। তাকে ছাড়ারও কোনো সম্ভাবনা দেখছি না; অনেক টাকার মামলা, প্লাস পুলিশ কেস-এর ভয় তো আছেই। সম্প্রতি ওরা মামলা-মোকদ্দমাকে বাম হাতের খেল মনে করছে, পরিস্থিতি দেখে তা-ই অনুমিত হয়।

তারপরও তাবিতার আশা আমি ছাড়ি নি, অর্থাৎ আমার যোগ্যতার চেয়ে অনেক কম পারিশ্রমিক দিলেও সেখানে এখনো লেগে আছি। টাকা কম পেলেও ওর সাথে যে সময়টুকু অতিবাহিত করি, সেটা খুব ভালো কাটে আমার, বলতে গেলে এনজয় করি। তবে সমস্যা হলো, ও অনেকগুলো কোচিং করে আর আমি ওর স্কুল ছুটির অব্যবহিত পরেই ওকে পড়াই বলে ঐ সময় ঘুম ঘুম ‘মুডে’ থাকে, যা দেখতে আমার চরম বিরক্ত লাগে। এছাড়া মাইয়াটা আগে থেকেই একটু বেয়াদব টাইপের, উপরন্তু ওর প্রতি আমার আকর্ষণের কারণ বুঝতে পেরেছে, তাই বেশি করে বেয়াদবী করে।

যেমনঃ রিডিং টেবিলের উপর রাখা যে বইটা ও হাত দিয়ে নিতে পারে, সেটা প্রায়ই আমাকে ‘নির্দেশ’ করে ওর সামনে দিতে। তখন মেজাজ বেশ খারাপ হয় আমার, তারপরও বেশিরভাগ সময়ই আপত্তি না করে সেটা দিয়ে দেই। আসলে ওর সাথে তর্কে জড়ালে যদি তা খারাপ দিকে মোড় নেয়, তখন টিউশনিটা চলে যেতে পারে। আর সেটা ঘটলে হৃদয়ে অনেক কষ্ট পাবো বোধ হয়, যে কষ্ট আট-দশ বছরে ভুলতে নাও পারি। বড় কথা হচ্ছে, আরো আট-দশ বছর যে আমি বাঁচবো সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই। ফলে ওর সাথেও যদি পুরনো প্রেমিকা কাম ছাত্রীদের মতো বিচ্ছেদ ঘটে, তবে এটাই হতে পারে আমার জীবনের শেষ বিচ্ছেদ ও ছ্যাঁকা।

আমার ছাত্রী তাবিতা দেখতে অনেকটা বলিউডের এক সময়কার হিট নায়িকা জিনাত আমান-এর ইয়াং বয়সের মতো

যেহেতু সে মোটামুটি জানে যে, আমি তাকে অন্যরকম চোখে দেখি, তাই চাচ্ছি আমাদের দু’জনার মাঝের সম্পর্কটাকে আরেকটু এগিয়ে নিতে। সেক্ষেত্রে ওর সাথে ফিঁসফিঁস করে কথা বলা জরুরী এবং হালকা-পাতলা টাচও করা আবশ্যক। তবে ওকে পড়ানোর সময় আমার চেয়ারের অবস্থান যেখানে, সেটা একটা সমস্যাযুক্ত জায়গা; ঘাড় ঘুরিয়ে দেখা যায় না, পিছনে কেউ আছে কিনা। তাছাড়া বিকালের সময় পড়াই, তখন উক্ত রুমের সব কয়টি জানালা খোলা থাকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মেয়েটা আগের কোনো প্রাইভেট টিউটরের সাথে প্রেম করেছে, বা টিউটর ওর সাথে প্রেম করতে চেয়েছে, তাই এতো কড়াকড়ি।

ভাবছি, এই ব্লগের দু’একটা লেখা ওকে পড়তে দিব, তাতে হয়তো ওর সাথে আরেকটু ফ্রি হওয়া যাবে।

https://www.youtube.com/watch?v=WZS3yeI79JI

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.