বঙ্গভ্যাক্সের ট্রায়ালের অনুমোদন এবং একজন অপরিণামদর্শী স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আজ (১৬ জুন, ২০২১) দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমআরসি কর্তৃপক্ষ দেশী ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী গ্লোব বায়োটেক এর কোভিড-১৯ টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ এর অনুমোদন দিয়েছে। এই টিকা বিভিন্ন প্রাণীতে যথেষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে সক্ষম, এমনটি প্রমাণ পাবার পর গ্লোব কর্তৃপক্ষ হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদনের জন্য আবেদন করে, সেই ফেব্রুয়ারী মাসে। কিন্তু এতোদিন কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়াশব্দ দেয় নি, কী কারণে অনুমোদন আটকে রেখেছে – সে বিষয়েও কোনো খোলাসা করে নি। তাই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল।

জনগণ যা ভেবেছিল

জনগণ ভেবেছিল, সরকার বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এর মতো বড়বড় কোম্পানীগুলোকে একচেটিয়া ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেবার উদ্দেশ্যে এতোদিন যাবৎ গ্লোবের টিকার হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদন আটকে রেখেছিল। এখন, ট্রায়ালের অনুমোদন দিলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে বেক্সিমকো টাইপ কোম্পানীর কোনো আর্থিক স্বার্থ জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ে দেশবাসী সন্দিহান। অর্থাৎ টিকা ট্রায়ালের অনুমোদন দিলেও তাঁরা এখনো সন্দেহের ঊর্দ্ধে নন।

যেমনটি ভাবতে চাই

আমরা ভাবতে চাই, ‘না, বেক্সিমকো ফার্মার সাথে আর্থিক স্বার্থের দরুন নয়, বরং জনগণের বৃহত্তর মঙ্গলার্থেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এতোদিন বঙ্গভ্যাক্সের ট্রায়ালের অনুমোদন দেয় নি।’ এরকম ঈঙ্গিত সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক একবার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চায়না ও রাশিয়া অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশকে বলে আসছিল, ‘যদি টিকা নিতে হয়, তাহলে এদেশের মানুষের ওপরও ট্রায়ালের অনুমোদন দিতে হবে’। সরকার নাকি জনগণকে গিনিপিগ বানাতে চায় নি, তাই ট্রায়ালের অনুমতি দেয় নি। ট্রায়ালবিহীনভাবে টিকা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে। সেটাও পুরোপুরি সফলও হতো হয়তো, যদি না করোনার তাণ্ডবে ভারত এভাবে নাকানিচুবানি খেত। করোনা শুরুর দিকে যেই ভারত আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো দেশকে স্বাস্থ্য উপকরণ পাঠিয়ে সাহায্য পাঠিয়েছে, তাদের অবস্থাই যে একদিন সঙ্গীন হব, এমনটা কেউ ভাবে নি হয়তো।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ নামছে, বাংলাদেশে তৃতীয় ওয়েভ উঠছে

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে করোনার তাণ্ডব কিছুটা কমতে শুরু করেছে। সংক্রমণ ও দৈনিক মৃত্যুর হার সেখানে কমছে, আর বাংলাদেশে বর্তমানে সেটা বাড়ছে। বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে গড়ে ৫৬ জন করে করোনায় মারা গেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার ও মৃত্যুসংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এখানে, যা নিশ্চিতভাবে একটি অশনীসংকেত।

আইসিডিডিআরবি’র গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে সম্প্রতি যে সংক্রমণগুলো হয়েছে তার শতকরা প্রায় ৬৮ ভাগই হলো করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দরুন। তার মানে ডেল্টা ধরন দ্বারা এখন দেশে ব্যাপক হারে সামাজিক সংক্রমণ হচ্ছে। জানামতে, এই ভ্যারিয়েন্ট খুবই সংক্রামক এবং ইয়াং জেনারেশনকে পর্যন্ত নাজেহাল করে ছাড়ে। তাই এসব বিবেচনায় নিয়ে এবং সংক্রমণ ও মৃত্যুসংখ্যার ঊর্দ্ধগতি লক্ষ্য করে এটা স্পষ্ট যে, দেশে করোনার আরেকটি ঢেউ বা ওয়েভ উঠছে। এটি দ্বিতীয় ওয়েভ নয়, বরং তৃতীয় ওয়েভ। শীতকাল শেষে এপ্রিলের শুরুর দিকে যখন দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা হুহু করে বাড়তে শুরু করেছিল, তখন সরকার কঠোর লকডাউন দিয়েছিল। সেটা করে অল্পতেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিয়েছিল সরকার।

কিন্তু এবার কী হয় কে জানে! ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আসুক আর ‘স্পেনিশ’ ভ্যারিয়েন্টই আসুক, লোকজন করোনার স্বাস্থ্যবিধি দিনদিন বেশি করে উপেক্ষা করছে। তাদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা দেখে মনেই হয় না যে, দেশে এবং সারা বিশ্বে একটি মহামারি চলছে। তার উপর সরকার বলছে, এবার নাকি আর সর্বাত্মক লকডাউন দেবে না, শুধু পরিস্থিতি খারাপ হলে এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেবে।

ভারতে বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নামছে, অথচ বাংলাদেশে তৃতীয় ঢেউ উঠছে – এ বিষয়টি এখন ব্যাখ্যা করি। বাংলাদেশে যখন করোনার প্রথম ঢেউ দেখা দেয় – গত বছরের মার্চ মাসে, তখন ভারতও প্রথম ঢেউ মোকাবেলা শুরু করে। এতে তারা বেশ সফল হয়। ঐ সময় ভারতে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ খুবই কম ছিল। তাই তো, তারা ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এসব দেশকে করোনার চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়ে সাহায্য করতে পেরেছিল। কিন্তু এ বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ উঠতে শুরু করলো, তখন বাংলাদেশ সরকার কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে সেটা সামাল দিলেও ভারত তা করতে পারে নি। তারা লকডাউন দিতে অনেক বেশি দেরি করেছে, সামগ্রিক লকডাউন কখনো দেয় নি, কেবল এলাকাভিত্তিক লকডাউন দিয়েছে। তাই তারা এখনো করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলাচ্ছে। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ঢেউ সফলভাবে সামলালেও করোনা ভাইরাসের ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে এবার তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে যেভাবে ইমিগ্রেশন ঘটে, তাতে বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যে ছড়িয়ে পড়বে, সেটা অবশ্যম্ভাবী ছিল।

উপরের ছবিতে দেশে করোনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ সম্পর্কে আমার প্রেডিকশন তুলে ধরা হয়েছে। আমার ধারণা ছিল, দেশে দ্বিতীয় ঢেউটা দীর্ঘায়িত হবে, সৌভাগ্যক্রমে সেটা হয় নি।

তৃতীয় ওয়েভে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা কেমন হবে?

এ প্রসঙ্গে কিছু আশার কথা শুনিয়ে রাখি দেশবাসীকে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতে করোনায় মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন জাংকফুড খেয়ে অভ্যস্ত, তারা শাকসবজি কম খায়, তাই তারা অপুষ্টিতে ভোগে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। একারণে সেখানে করোনায় মৃত্যুহার বেশি। ব্রাজিল ও ভারতে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ হলো, এ দুটি দেশে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা খুবই বেশি। এ রোগে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়, তাই ব্রাজিল ও ভারতে করোনায় মৃত্যুহার এত বেশি। ভারত বা ব্রাজিলের মতো আমাদের দেশে অবাধ যৌনতার সুযোগ নেই, তাই এদেশে এইডসও কম। একারণে আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা হচ্ছে, দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কখনোই খুব একটা বেশি হবে না।

হাইড্রলিক হর্নে শিশুর কান্না

আজ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা দিয়ে গণপরিবহনে (লোকাল বাস) চড়ে গুলিস্তানের দিকে আসছিলাম। সাইনবোর্ডে সবসময়ই সিগন্যাল পড়ে এবং সেখানে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট অলস সময় পার করতে হয়, আজও ব্যতিক্রম ছিল না।

বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে গাড়িগুলো জ্যামে আটকে থেকে অগ্রসর হোক আর না হোক, চালকেরা ক্রমাগত হর্ন বাজাতে থাকে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই হলো হাইড্রলিক হর্ন, যা কানে প্রচণ্ড রকম আঘাত করে। সরকার আইন করে হাইড্রলিক হর্ন নিষিদ্ধ করেছিল, তারপরও এগুলো ব্যবহৃত হয় কীভাবে? একটা ব্যাপার কোনো চালক বুঝতে চায় না যে, সামনের গাড়িওয়ালা তো সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে এখানে আসে নি, সে সুযোগ পাওয়া মাত্রই নিশ্চয়ই সামনে অগ্রসর হবে। তাহলে শুধুশুধু হর্ন বাজানো কেন?

কেন জনগণের কানে তালা লাগানোর ব্যবস্থা করা? আমরা বড় মানুষেরা বা প্রাপ্তবয়স্করা হয়তো এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কিন্তু কোমলমতি শিশুরা তো হয় নি। আজকে বাসে আমার সামনের সিটে এক ইয়াং দম্পতি বসেছিল, তাদের কোলে ছিল ৪-৫ মাস বয়সের একটি শিশু। শিশুটি খুব সম্ভবত ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ পাশের একটি বড়সড় বাসের প্রচণ্ড হর্নের শব্দ তার ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং শিশুটি চিৎকার দিয়ে কান্না শুরু করলো। বাসের এই উচ্চশব্দের অপ্রত্যাশিত হর্ন ছিল শিশুটির কাছে একটি ‘অফেন্স’ এর মতো। কী কারণে তাকে অফেন্ড করা হলো সেটা সে বুঝতে পারে নি। তাই বেশকিছু সময় ধরে শিশুটি ক্রমাগত কাঁদতেই থাকলো। তার বাবা-মা অনেকক্ষণ ধরে শিশুটিকে আদর করে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তার কান্না থামালো। হয়তো শিশুটি এতে প্রবোধ পেল যে, এমনটি আর হবে না। এভাবে শব্দদূষণের কারণে কত শিশুর, কত বৃদ্ধ-বৃদ্ধার, কত অসুস্থ রোগীর সমস্যা হচ্ছে সেটা কি কেউ ভেবে দেখেছে? যে করেই হোক. এসব থামাতে হবে।

আরেকটা বিষয় হলো, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য নগরীর যেসব পয়েন্টে ট্র্যাফিক জ্যাম বেশি হয় এবং সিগনালের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গাড়িগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেসব পয়েন্টে সরকার ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে যাচ্ছে কিনা। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় এরকম একটি ফ্লাইওভার দরকার। পুনরায় এটাও বলতে চাই, কোনো স্থানে ফ্লাইওভার বা মেট্রোরেল বা অন্য কোনো বড় স্থাপনা নির্মাণ হতে থাকলে সেখানে এতো হূলস্থূল হয় কেন, পুরো একটা জঞ্জালের মতো অবস্থা তৈরি হয় কেন আমাদের দেশে? আমি ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা দিয়ে বাসে চলাচল করি, তাই এ কথাটা বলছি। সেখানে শুধু ট্র্যাফিক জ্যাম নয়, বরং মাতুয়াইল থেকে শুরু করে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত পুরো জায়গাটা যেন কনক্রীট ও মাটি-বালুর এক জঙ্গল। এমনটাই কি হওয়ার কথা ছিল, শুধু মেট্রোরেলের কাজ চলছে বলে?

এর কি কোনো বিকল্প নেই? আমি মেট্রোরেলের বিকল্পের কথা বলছি না, বলছি এই ‘জঙ্গল মার্কা টাইপ’ কাজের স্টাইলের কথা। অন্যান্য দেশেও কি বড় বড় প্রকল্পের কাজের সময় এরকম হূলস্থূল কাণ্ড ঘটে?

এদেশে কি টিকটক নিষিদ্ধ করা দরকার?

প্রথমে বুঝতে হবে, যেকোনো উপযোগিতা বা সার্ভিসেরই ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে। দেশে মোবাইল ফোন সার্ভিস চালু হয়েছিল ১৯৯৫ সালের দিকে। তারপর এ সার্ভিসের বিস্তৃতি ক্রমেই বাড়তে থাকায় জনগণ উপকৃত হয়েছে। আবার, মোবাইল টেলিফোনের অপব্যবহারও কম হয় নি। যেমনঃ ফোন করে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা বা কিডন্যাপিং এর কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা। তাই বলে কি আমরা কখনো মোবাইল টেলিফোন সার্ভিস ব্যবহার করা বন্ধ করেছি? অথবা কোনো সরকার কখনো কি সেটা করবে? অবশ্যই না।

আবার, পরমাণু শক্তির কথাই বিবেচনা করুন। এ শক্তি ব্যবহার করে যেমন সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, তেমনি যুদ্ধে এর ব্যবহার দ্বারা ধ্বংসলীলাও কম চালানো হয় নি। তাই বলে কি মানব সম্প্রদায় পরমাণু শক্তি ব্যবহার বন্ধ করে দিবে? অবশ্যই না।

ঠিক তেমনি টিকটক নামক সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিসেরও ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে। ভালো দিক হলো – এটা এমন এক ধরনের নির্মল বিনোদন দেয় যা অন্য কোনো সার্ভিস যেমন, ফেসবুক বা ইউটিউব দিতে পারে না। ইউটিউবের দীর্ঘ ভিডিও দেখার ধৈর্য্য সবসময় থাকতে নাও পারে, সেসময় টিকটকের শর্ট ভিডিওগুলো চমৎকার বিনোদন দিতে সক্ষম। টিকটকের মাধ্যমে ইয়াং জেনারেশন তথা যেকোনো বয়সের লোক তাদের নাচ-গানের মেধা বা প্রতিভা সর্বসাধারণের কাছে তুলে ধরতে পারছে। কেউ কেউ কমেডি ভিডিও বানাচ্ছে, কেউ বানাচ্ছে শিক্ষামূলক ভিডিও, আবার অনেকে ধর্মীয় ভিডিও বানিয়ে ধর্ম প্রচারের কাজ করছে। এসব করে অনেকে ইউটিউবিং এর মতো টিকটকেও অর্থ উপার্জন করছে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বা স্পন্সরশিপের মাধ্যমে।

সুতরাং টিকটকে ফেমাস হওয়ার লোভ দেখিয়ে মেয়েদেরকে কৌশলে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বা টিকটকে বুঁদ হয়ে ইয়াং জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে দেশে টিকটক ব্যান করা ঠিক হবে না। কারণ পাচারের মতো অপকর্ম করছে মুষ্ঠিমেয় লোক, আর দেশে টিকটক ব্যবহার করে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ। শামিমা আফরিন ওমি নামক এক বাংলাদেশি টিকটকারের ৩৯ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে।

জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা ইসলামের শত্রু

গতকাল হামাস ইসরাইলের দিকে ডিভাইসযুক্ত গ্যাসবেলুন পাঠিয়েছে এবং সেখানে কয়েকটি স্থানে অগ্নিবিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলাফলে ইসরাইল নতুন করে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু করেছে। তার মানে হলো, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলো। এর আগেও রোজার মাসে ঈদের প্রাক্কালে এই দুই গোষ্ঠীর মাঝে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার মূলে ছিল হামাস। কারণ, আল আকসা মসজিদে ইসরাইলি পুলিশ ও মুসল্লিদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় রকেট হামলা চালানো উচিত হয় নি হামাসের। তাদের বোঝা উচিত যে, তাদের ছোড়া বেশিরভাগ রকেটই ইসরাইলের রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশী মুসলমানদেরকেও একই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ইসলাম মহান, তবে জঙ্গীবাদ মানে ‘জিহাদ’ নয়। নিরপরাধ বিদেশী নাগরিক হত্যা করা মানেই ‘জিহাদ’ নয়। গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গী হামলায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় নি, বরং তা নোংরা হয়েছে, দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, দাড়িটুপিওয়ালাদের প্রতি অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে। এভাবে সমগ্র দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে বিপদে ফেলে দিয়েছে গুটিকয়েক জঙ্গী। তাই জঙ্গীবাদের কথা যারা বলে, তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে। জিহাদ মানে হলো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করা। এজন্য কেবল আপনার সৎ সাহস দরকার, কোনো অস্ত্র বা বোমার দরকার নেই। হয় হামাসকে তাদের আক্রমণাত্মক তথা জঙ্গী মনোভাব বাদ দিতে হবে নতুবা ফিলিস্তিনবাসীকে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বা ফিলিস্তিনীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত তথা প্রতিষ্ঠা করার জন্য হামাস সম্ভবত ‘আবশ্যকীয়’ কোনো উপাদান নয়, বরং ফিলিস্তিনীদের বর্তমানে দরকার সঠিক মনোভাবসম্পন্ন নেতৃত্ব।

নায়িকা পরীমণির উচিতশিক্ষা হয়েছে

নায়িকা পরীমণি বেশ কয়েক বছর যাবৎ বেলেল্লাপনা করে আসছেন। চলচ্চিত্রে খুব একটা অভিনয় না করা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে কিছুদিন পর পর লেটেস্ট মডেলের গাড়ি হাঁকান, সেটা এখন বুঝতে আর কারো বাকি নেই। তিনি দেহব্যবসা এবং উগ্র জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তার প্রতিফলন হলো – রাতবিরাতে তাঁর নাইটক্লাবে যাওয়া এবং সেখানে গিয়ে ধর্ষণপ্রচেষ্টার শিকার হওয়া। এ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চেয়েছেন এবং তাঁকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছেন। প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার মেয়ে কি কখনো রাতবিরাতে নাইটক্লাবে ফূর্তি করতে যাবেন, বা কখনো গেছেন? অবশ্যই না। শেখ হাসিনার মেয়ে বা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, যিনি কিনা প্রসিদ্ধ পরমাণুবিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ারও কন্যা, তিনি কতটা লক্ষ্মী তা দেশবাসী ভালো করেই জানেন। তিনি উচ্চশিক্ষিত এবং অটিজমের উপর আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত। তাই প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ সম্বোধন করে পরীমণি তাঁকে প্রকারান্তরে অপমান করেছেন, তাঁর মর্যাদাহানি করেছেন। পরীমণি যেভাবে বেড়ে গিয়েছিলেন, তাতে এমনটিই যে হবার কথা ছিল, তা বলা বাহুল্য। তিনি উচিত শিক্ষা পেয়েছেন, দেশবাসী খুশি হয়েছে। আশা করি, এবার তিনি তাঁর দেহব্যবসা তথা ‘চামড়ার ব্যবসা’ কমাবেন এবং সভ্য নাগরিক হওয়ার দিকে মনোযোগ দিবেন।

প্রচলিত বেশিরভাগ ধর্ম কল্পকাহিনী বা ফিকশননির্ভর

বেশিরভাগ বললাম এই কারণে যে, নাস্তিক্যবাদ নিজেও একটি ধর্ম। তবে এটি এখন পর্যন্ত সত্যতম ও সঠিকতম ধর্ম। নাস্তিক্যবাদ মানে ধর্মহীনতা বা নীতিহীনতা নয়, সত্যিকার একজন নাস্তিক অবশ্যই নীতিবান।

ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, সনাতন, ইহুদীবাদ – এসকল ধর্ম ফিকশন বা কল্পকাহিনীনির্ভর, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং বিজ্ঞান দ্বারা পুরোপুরি অসমর্থিত। মোহাম্মদের মিরাজ, তার অঙ্গুলি হেলনে চাঁদের দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যীশু ঈশ্বরের পুত্র হওয়া, মুসা ও তার অনুসারীদের নীলনদ পার হওয়া, ইব্রাহিমকে আগুনে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও কোনো ক্ষতি না ঘটা, আদমের বেহেশত থেকে বিতাড়িত হওয়া, হনুমান কর্তৃক সম্পূর্ণ পাহাড় কাঁধে করে নিয়ে আসা – এর সবই ফিকশন বা কল্পকাহিনী। 

ভাগ্য ভালো যে, পৃথিবীর সব ফিকশন থেকে এক একটি ধর্মের উদ্ভব হয় নি। তা যদি হতো, তাহলে দেবতা জিউস ও তাঁর পুত্র হারকিউলিসের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে পৃথিবীর বুকে হয়তো আরেকটি ধর্মের উদ্ভব ঘটতো, যে ধর্মের অনুসারীরা কাল্পনিক দেবতা জিউস এবং তাঁর মানবরূপী পূত্র হারকিউলিসকে পূজা করতো। শুধু তাই নয়, না জানি আরো কত শত ধর্মের উদ্ভব ঘটতো এই ধরণীর বুকে! সেটা হলে অবশ্য ভালো হতো। তাহলে ১৮০ কোটি মানুষের ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে মুসলিমরা পৃথিবীজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারতো না। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের ধর্ম বলে ক্রিশ্চিয়ানিটি নিয়ে গর্ব করতে পারতো না খ্রিস্টানরা। 

ফিকশন নির্ভর নয় এরকম ধর্ম অবশ্য আছে দু’ একটি, যেমনঃ বৌদ্ধ ধর্ম। কিন্তু আজ হতে আড়াই হাজার বছর আগে গৌতমবুদ্ধ যে জীবনাদর্শ দিয়ে গেছেন, তার বেশিরভাগই আজ বিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান। বুদ্ধ কেবল একটি জীবনাদর্শের কথা বলে গেছেন, যা অনুসরণ করলে মানবতার মুক্তি মেলা সম্ভব; তিনি কোনো ঈশ্বরের কথা বলে যান নি। অথচ আজ পৃথিবীর বেশিরভাগ বৌদ্ধরা (কাল্পনিক) ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। তাই এই বিকৃত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়েও লাভ নেই। বৌদ্ধ ধর্ম যদি সত্যিই অহিংসার ধর্ম হতো, তাহলে এ ধর্মের অ্যাম্বাস্যাডররা অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা স্বয়ং অকাতরে মানুষ হত্যা করতে পারতো না, মায়ানমারে। 

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্ম, ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিন্দুইজম, ইহুদী – প্রচলিত এ সকল ধর্ম অকেজো এবং অর্থহীন, এগুলো মানব সম্প্রদায়ের আর কোনো কাজে আসবে না। ধর্ম যদি বেছে নিতে হয়, তাহলে সেটি হলো নাস্তিকতা, এটিই মানবতার ধর্ম। কারণ মানুষ হিসেবে পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হলে বিবেক ও বুদ্ধি অপরিহার্য। কোনো বিবেকবান ও বুদ্ধিমান মানুষ কল্পকাহিনী নির্ভর ধর্মগুলোকে সমর্থন করতে পারেন না, সেগুলোর কোনোটিকে অনুসরণ করতে পারেন না।

মুসার অঙ্গুলী হেলনে নাকি এভাবেই সাগরের পানি দু’ভাগ হয়েছিল, ব্যাপারটা পুরোই হাস্যকর। তথাকথিত নবী-রাসূলরা জাদুকর নাকি ‘স্পেশাল’? স্রষ্টাই যদি তাদেরকে স্পেশাল বানিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করে থাকেন, তাহলে তারা ‘সাধারণ’ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন কীভাবে?!

প্রকৃত পাপ বনাম অলীক পাপ

মানুষ হত্যা করা, কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, নিরীহ কারো সাথে ধোঁকাবাজি করা, মানুষের মনে অকারণে কষ্ট দেওয়া, চুরি করা, ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ খাওয়া – এগুলো হলো প্রকৃত পাপ। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাতে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয়, সেটা হলো প্রকৃত পাপ। 

কিন্তু সেক্স করা, হস্তমৈথুন করা, মদ খাওয়া, সুদ খাওয়া – এসব কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয় না, আনলেস আপনি মদ খেয়ে গাড়ি চালান বা মাতলামি করে কারো বিরক্তির কারণ হচ্ছেন। তাই উল্লিখিত কর্মকাণ্ডগুলো প্রকৃত পাপ নয় (যেমনঃ আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে সেক্স করলে এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না), এগুলো হলো অলীক পাপ । অর্থাৎ এগুলো পাপ না হওয়া সত্ত্বেও ধর্ম, সমাজ এগুলোকে ‘পাপ’ বানিয়ে রেখে দিয়েছে। 

সমাজ মূলত চালায় মুরব্বীরা; তাঁরা নিজেরা যখন যৌবনে ছিলেন, তখন বিভিন্ন ধরনের ফূর্তি করেছেন। কিন্তু বয়স হওয়ার ফলে যেই না তাদের যৌনক্ষমতা কমে গেল এবং লিভারে পচঁন ধরায় মদ্যপানের ক্ষমতাও কমে গেল, তখন তারা ইয়াং জেনারেশনকে ফূর্তি করতে ও লাইফ এনজয় করতে দেবেন না – এমনটা বন্ধপরিকর হলেন। তখন তাঁরা ধর্মের দোহাই দিতে লাগলেন।

প্রচলিত ধর্মগুলোর উদ্ভব হয়েছে অসামাজিক টাইপের মানুষের দ্বারা, যেমনঃ মোহাম্মদ, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখ। মোহাম্মদ নিজ সমাজের ছেলেপুলেদের সাথে মিশতে পারতো না, তাদের সাথে মিলে এনজয় করতে পারতো না, তাই সে সবাইকে নিজের মতো করে বানানোর উদ্দেশ্যে ধর্ম আবিষ্কার করেছে। যে এনজয় সে নিজে করতে পারে নি, সেটা সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাউকে করতে দেবে না – এটাই ছিল তার মাস্টারপ্ল্যান। অনাচারের কথা যদি সে বলে, তাহলে বলতে হয় – অনাচার যুগে যুগে সব সমাজেই ছিল, কমবেশি। তাই বলে সমাজচ্যুত হওয়া ঠিক নয়, সমাজচ্যুত হওয়াটাই সবচেয়ে বড় মাপের একটা পাপ।

স্রষ্টার উপাসনা না করাও একটি অলীক পাপ। কারণ আপনি স্রষ্টার উপাসনা না করলে তার তেমন কী ক্ষতি হবে? (যদি সে একজিস্ট করেও)। আর সাধারণ লোকজনেরই বা কী ক্ষতি হবে? তদুপরি, স্রষ্টা যদি থেকেও থাকে, সে উপাসনার এত কাঙাল কেন? আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি দুনিয়াতে আসার জন্য কাউকে রিকোয়েস্ট করি নি, তাই পৃথিবীতে এসে কাউকে উপাসনা করার প্রয়োজন আমার নেই। এবার আপনি নিজে ভেবে দেখুন, আপনি কি কাউকে অনুরোধ করে পৃথিবীতে এসেছেন? মনে হয় না। তাহলে তথাকথিত স্রষ্টার উপাসনা কেন করবেন?

আপনি নামাজ, রোজা না করলে, মূর্তিপূজা না করলে কারো কোনো ক্ষতি হবে না, তাই এই তথাকথিত পাপগুলো হলো অলীক পাপ, অর্থাৎ আদতে পাপ নয়। তাই বলি, যেগুলো প্রকৃত পাপ, কেবল সেগুলো করবেন না, যেমনঃ মানুষ হত্যা করা, মানুষের মনে শুধুশুধু কষ্ট দেওয়া প্রভৃতি। এরকম কয়েকটি প্রকৃত পাপের নাম নিবন্ধের শুরুতেই উল্লিখিত হয়েছে। আর অলীক পাপগুলো করুন, যেমনঃ প্রেম-পরকীয়া-সেক্স করুন, ঘনঘন যৌনসঙ্গী বদলান, হস্তমৈথুন করুন, সুদ খান, উপাসনা তথা নামাজ-রোযা পরিহার করুন ইত্যাদি। তবে লাইফ এনজয় করলেও তা একটু হিসাব করে করবেন। যেমনঃ ঘনঘন যৌনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন সঙ্গী বেছে নিন, যার যৌনরোগ নেই। হস্তমৈথুন করলেও তা স্বল্পমাত্রায় করুন। তাহলে এসকল ‘অলীক’ পাপের জন্য ভবিষ্যতে আপনাকে কখনো ভুগতে হবে না।

ছুরি হলো প্রকৃত পাপ সংঘটনের একটি মোক্ষম অস্ত্র

নাস্তিকদের শেষকৃত্য

যে কয়েকটি বিষয় দিয়ে আস্তিকরা, বিশেষ করে ইসলামী মোল্লারা নাস্তিকদেরকে নাস্তানাবুদ করতে চায়, তার মধ্যে একটি হলো – ‘আপনি কি মরবেন না? তখন কি জাহান্নাম এড়াতে পারবেন? আপনার জানাজা পড়াবে কে? আপনাকে কি কবর দিতে হবে না? তখন তো ঠিকই হুজুরদেরকে লাগবে?’ ইন ফ্যাক্ট, আমাকেও এ ধরনের কথা শুনতে হয়েছে এবং এখনও হয়। প্রতিবেশী এক ধর্মব্যবসায়ী আছে, তারা পারিবারিক সূত্রে এক মসজিদের মালিক। সেখানে আমি নামাজ পড়তে যাই না, তাই এ ধরনের কথা ঐ মসজিদের ইমাম তথা মালিকপক্ষের একজন এবং এলাকার লোকজনের কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে আমাকে।

আর আমার বউ তো অহরহ খোঁটা দেয় সেইম টাইপের কথাবার্তা বলে। সুতরাং বোঝা গেল, শেষকৃত্য ব্যাপারটা নাস্তিকদের জন্য একটি বিব্রতকর ইস্যু। তাই আমি বলি কী – ‘লাগবে না আমাদের, নাস্তিকদের কোনোরূপ জানাজা বা লাস্ট রেসপেক্ট লাগবে না। চলুন, আমরা নাস্তিকরা সবাই আমাদের স্ব স্ব দেহ মরণোত্তর দান করে দেই। অথবা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই, যেখানে লাশ সমাহিত করার জন্য বিশেষ কোনো রীতিনীতি বা আচারের প্রয়োজন হবে না। কেউ যদি মনে করে যে, তাকে মৃত্যুর পর এক কাপড়েই কবরে সমাহিত করা হোক, তবে তাই হবে।’

আর কেউ যদি চায় তবে তাকে তার মনের মতো করে সাজগোজ করিয়ে কবরে সমাহিত করা হবে। বেশভূষা যাই হোক, ইট ডাজন্ট ম্যাটার। কারণ মৃত্যুর পর কোনো চেতনা নেই, কোনো শাস্তি নেই, কোনো সুখও নেই। এটাকে কেবল লম্বা একটা ঘুম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। 

এসব উদ্যোগ নেয়া হলে শেষকৃত্য বিষয়ে আস্তিকদের লাফালাফি এবং ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং অনেকটা কমে যাবে।

বীথির সাথে শুতে আগ্রহী হই নি, তাই…

বীথিকা রাণি মুন্সি, যার নাম বর্তমানে বীথিকা রাণি ঘোষ, …… ঘোষ নামক এক সাংবাদিককে বিয়ে করার পর। এই বীথি বর্তমানে সম্ভবতঃ লেকচার পাবলিকেশন্সে কাজ করে, কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে অথবা পিএমডি’তে। তার সাথে আমার পরিচয় পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে।

আমাকে প্রথমদিন দেখেই সে আমার সাথে শোয়ার প্ল্যান করে। সেটা সে বিভিন্ন অশালীন বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়। যদিও সে দেখতে আকর্ষণীয় ছিল না, তবু তার সাথে শুতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু সে ও সুনীল মিলে আমার নামে এবং আমার রিপোর্টিং বস সাঈদের নামে একটা মিথ্যা কলংক দেয়, আমরা দু’জনে নাকি কৌশলে কোম্পানীর টাকা লোপাট করছি। যদিও এই অভিযোগ আমার চেয়ে সাঈদের গায়ে লেগেছে বেশি, তবুও আমি সাঈদের সাথেই থাকতে বাধ্য হলাম। কারণ এমন একটা অভিযোগের পর আমি যদি আবারও বীথির সাথে মেলামেশা করি, তাহলে সাঈদ আমাকে কৌশলে কাজ দেয়া বন্ধ করে দেবে, বা বেশ কমিয়ে দেবে।

শুধু যৌনকার্য করে তো আর পেট চলে না, তার জন্য টাকাও কামাতে হয়। যাই হোক, বীথি আমার সাথে এমন আচরণ করতে লাগলো যেন, আমাকে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ বা কুৎসা সে রটায় নি। কিন্তু আমি তাকে অগ্রাহ্য করতে, অর্থাৎ এড়িয়ে চলতে বাধ্য হলাম। তখন আমার বয়স ছিল ৩৪, আর বীথির বয়স ছিল ৩৭। আমি তো ২৫ বছর বয়স হতেই বিবাহিত, কিন্তু বীথি তখনো অবিবাহিতা। তার যৌবনজ্বালা তো কাউকে দিয়ে মিটাতে হবে, তাই না? আমার কাছ থেকে সে যখন নেগেটিভ অর্থাৎ না-সূচক রিঅ্যাকশন পেল, তখন এক পর্যায়ে আমার আশা ছেড়ে দিল সে। তখন বীথির বান্ধবী নাসরিন আমার সাথে কারণে-অকারণে খারাপ আচরণ শুরু করলো

অথচ নাসরিন যে টাইপের মহিলা, তাতে বীথির সাথে আমি শুলে, পরে কিছুটা লবিং ও রিকোয়েস্ট খাটালে নাসরিনকেও বিছানায় নিতে পারতাম বলে আমার বিশ্বাস। আবার এমনও হতে পারতো যে, নাসরিন নিজেই হয়তো তার বান্ধবীর শয্যাসঙ্গীর সাথে শুতে আগ্রহী হতো, স্রেফ টেস্ট চেঞ্জ করার জন্য বা চেখে দেখার জন্য।

পাঞ্জেরীর আরএন্ডডি’র তৎকালীন হেড সুনীলও অবিবাহিত ছিল, সে নিজের জন্য বা নিজের এক অবিবাহিত ভাইয়ের জন্য বীথিকে এই ফাঁকে সিস্টেম করে নিল। এটা সুনীলের জন্য খুবই সম্ভবপর ছিল, কারণ একে তো বীথি ছিল তার সাবঅর্ডিনেট, দ্বিতীয়ত উভয়ে একই ধর্মের লোক। আমি অবশ্য এসব খবর পেয়েছি সাঈদের কাছ থেকে।

বীথিকে এক-দেড় বছর ব্যবহার করে সুনীল ও তার ভাই, এ ফাঁকে বীথি ব্যাপক পরিমাণ টাকা রাইটারদের বিলের নামে লোপাট করে, যার হিসাব সে এমডিকে দেখাতে ব্যর্থ হয়। তখন সে হতাশ হয়ে, বিশেষ করে সুনীলের সাপোর্ট না পেয়ে পাঞ্জেরী ছেড়ে লেকচারে চলে যায়। আমার সাথে শুতে ব্যর্থ হওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে শত্রুতার বীজ পাঞ্জেরীতে বপন করে যায়, যেটা তখন নাসরিন বহন করছিল।

২০১৫ সালের শেষের দিকের কথা, তখন পাঞ্জেরীতে বিভিন্ন আজব ক্যারেক্টার ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে একজন ছিল আতিকুর রহমান জোয়ার্দার। সে বুয়েটিয়ান হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মতো বুয়েটিয়ান রাইটারদের বিলের রেট কমিয়ে দিতে তৎপর হয়ে পড়ে। এছাড়া আমার দীর্ঘ সময়ের রিপোর্টিং বস সাঈদ তখন সুযোগ পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে এবং নিজের আলাদা জগৎ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ সে আর আমাকে সাপোর্ট দিবে না। আমিও বুঝতে পারি, এখন পারলে পাঞ্জেরী থেকে চলে যাওয়া উচিত। সে সময় ইউটিউবিং হয়ে পড়ে একটি সুযোগের নাম। আমি অবশ্য ইউটিউবে কোনো কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানাতে পারি নি। অনেকের দেখাদেখি চটিগল্প টাইপ ভিডিও আপলোড শুরু করি। তবে আমি সেটাতে বেশ জনপ্রিয়তা পাই, মূলতঃ দু’টি কারণে। আমি অন্যের কন্টেন্ট চুরি না করে নিজেই কন্টেন্ট বানাতে শুরু করলাম এবং গল্প উপস্থাপনায় আমি বেশ দক্ষ ছিলাম, নিজের ভাষাগত দক্ষতার কারণে।

পাঞ্জেরীর সাঈদ, নাসরিন, প্রুফরিডার সজীব, ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের রিয়াজ এবং আরো অনেকে ইউটিউবে আমার কন্টেন্ট চুরি করে চ্যানেল খুলে আমার মতো টুপাইস কামাচ্ছিল, কিন্তু তাদের অ্যাক্টিভিটি জনগণের অজানা ছিল, তাই তাদেরকে কোনো ব্লেইম শুনতে হয় নি। ব্লেইম শুনতে হয়েছে আমাকে, নিজেই ইউনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েট করার কারণে। আমি উল্টাপাল্টা কন্টেন্ট ক্রিয়েট করেছিলাম ঠিকই, তবে তরুণ প্রজন্মের হাজার হাজার ছেলেকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম যে, ইউটিউবের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সম্ভব। ‘১৬ সালে অ্যাক্টিভ আমার মতো কয়েকজন ইউটিউবারের কারণেই দেশে ইউটিউবিং বিষয়টি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেল এবং দেশ শতশত কোটি টাকা রেমিট্যান্স উপার্জন করতে শুরু করে, যে টাকাটা আগে ইন্ডিয়ায় চলে যেত।

দেশের অর্থনীতিতে আমার এ অবদান কেউ স্বীকার করবে না, সবাই বলবে, ‘আপনি তো খারাপ কন্টেন্ট তৈরি করেছেন।’ যারা আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে চায়, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে, ‘আর আপনি কী করেছেন? আপনি কি কেবল আমার কন্টেন্ট চুরি করে সেটা ইউটিউবে আপলোড করেছেন, আর টুপাইস কামিয়েছেন?’

‘১৬ সালের শেষের দিকে এসব উল্টাপাল্টা ইউটিউবিং এর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, আমি আবার পাঞ্জেরীতে ফিরে আসতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু বাধ সাধলো সাঈদ, নাসরিন, সুনীল – এরা। তখন আমার কাছে অনেক টাকা ছিল ঠিকই, কিন্তু রানিং ইনকাম ছিল অতি নগণ্য। ভবিষ্যতে কীভাবে চলবো, বিশেষ করে আমার বাবা-মা-ছোট ভাইকে নিয়ে যে সংসার সেটা কীভাবে চলবে, সেটা ভেবে আমি সন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম, তাদেরকে তো প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়।

বাড়িভাড়া দেয়ার হাত হতে বাঁচতে গ্রামদেশে এসে আধাপাকা/কাঁচা বাড়ি তুলে এখানে বসবাস শুরু করলাম। কাঁচা কর্দমাক্ত রাস্তাঘাটের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলাম না, অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে এবং অর্থজনিত টেনশনের কারণে আমার ডায়াবেটিস হয়ে গেল।

২০১৭ সালের শেষের দিকে, পাঞ্জেরীতে রাইটার হিসেবে টুকটাক কাজ করছিলাম, কিন্তু সাঈদ সেটা ভালো চোখে দেখতো না। এমন একটা সময়ে ফারহানাহ চৌধুরী নামক বুয়েটের এক মাগি আমার সাথে একটা গেম খেলে, আমার মনমানসিকতা নষ্ট করার গেইম, আমার সাথে ‘প্রেম-পরকীয়া’ করার গেইম। অর্থাৎ সে কৌশলে আমাকে লোভ দেখায়। আসলে তার পরিচিত একজন ছিল, ঋষিত নামে – এই ছেলেটিকে আমার ব্লগে লেখালেখির সুযোগ দেই নি, তাই। ঋষিত ছিল কপি পেস্ট টাইপের লেখক, ইউনিক কন্টেন্ট লিখতে পারতো না সে, তাই কেবল ফারহানাহ’র সুপারিশের কারণে তাকে লেখালেখির মাধ্যমে আমার কষ্টার্জিত টাকাগুলো দেয়ার কোনো মানেই ছিল না।

তাই ফারহানাহ আমার সাথে নাটক করে, আমার আশাগুলো উত্তোলিত করে পরে চূড়ান্ত রকম হতাশ করে, এটা এক রকম গেইম। সেটা ছিল ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাস। আমার বদ্ধমূল ধারণা হলো, ফারহানাহ না হোক, অন্য কোনো মেয়েকে ম্যানেজ করতেই হবে আমাকে, প্রেম/পরকীয়া’র জন্য। এজন্য প্রথমে নক করি ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টের শাহিনূরকে। মেয়েটি ‘১৫ সালে একবার আমার সাথে কফি খেতে যেতে চেয়েছিল, প্লাস তার চাউনির মধ্যে সে সময় ‘ভালোলাগা’ দেখতে পেয়েছিলাম। প্রায় আড়াই-তিন বছর পর যখন নিজেই তাকে ভালোলাগা’র কথা বলতে গেলাম, খেলাম ফেসবুকে ব্লক। গেল মাথা আউলা হয়ে।

অসুস্থ মাথায় ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের আরেকজনকে অর্থাৎ নাসরিনকে যৌনতার প্রস্তাব দিয়ে বসলাম। কারণ বীথির মতো চরিত্রহীন মহিলার সাথে ওঠাবসা করায় নাসরিনের প্রতি আমার ইম্প্রেশন বা মনোভাব ভালো ছিল না। প্লাস, সে নিজেও আমার সাথে কয়েকদিন খারাপ ব্যবহার করেছে, যার প্রতিকার সাঈদ করতে পারে নি, সম্ভবতঃ সাঈদ আগেই নাসরিনকে দৈহিকভাবে ব্যবহার করায়, তার কাছে জিম্মি ছিল।

আমি তখনকার দিনে, অর্থাৎ ‘১৮ সালে পাঞ্জেরীর ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করতাম। আগেও ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করতাম। ‘১৬ সালের শুরুতে পাঞ্জেরী থেকে বিরক্ত হয়ে চলে যাওয়ার যে কয়টি কারণ ছিল, তার মধ্যে একটি হলো – মিথ্যেবাদী আতিকুর রহমান জোয়ার্দার এবং শত্রুমনোভাবাপন্ন রাজুর সুপারভিশনে কাজ করতে হবে, তাই। প্লাস, অক্ষম এবং নিজেকে গোটাতে চাওয়া সাঈদ তখন আমাকে ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে কাজের অফার দিয়েছিল। দু’তিন বছর ধরে সংগ্রাম করে ফিজিক্সটা যখন আয়ত্ত্বে আনলাম, তখন নাকি ফিজিক্স ছেড়ে এবার ম্যাথে মনোনিবেশ করতে হবে, হাও আনপ্রফেশনাল!

যাই হোক, ‘১৮ সালে ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে একজন এক্সিকিউটিভ ছিল আরিফুল ইসলাম, তাকে শাহিনূর এবং নাসরিন মিলে ‘ছোটভাই’ বানিয়ে আমাকে দেখে নেয়ার অ্যাসাইনমেন্ট দেয়। সে কারণে এবং নিজে নরসিংদীর লোক হওয়ার কারণে আরিফ শুরু থেকেই আমার পিছনে লেগে ছিল (নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং উত্তর কুমিল্লার লোকদের আচরণগত সমস্যা ব্যাপক)। বুয়েটের পাঁচজনকে স্যাক করার পর সুনীল ব্যাপক চাপে পড়ে গেল এবং কোয়ালিটিসম্পন্ন লোক পাচ্ছিল না বিধায় ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের জন্য আমাকে রিক্রুট করে, বিষয়টি আরিফ, শাহিনূর এবং নাসরিন ভালোভাবে নেয় নি। তারা আমাকে উৎখাতে তৎপর হয়ে পড়ে। তাদের তৈরি করা প্রেশারের কারণে সুনীলও আমার পিছনে লাগতে বাধ্য হয়। যদিও আমি নিশ্চিত যে, আমাকে রিক্রুট করার আগে থেকেই শাহিনূর এবং নাসরিনকে পাঠানো আমার মেসেজের বিষয়ে সুনীল জানতো, তারপরও সে অভিনয় করলো যে, বিষয়টি সে আগে থেকে জানতো না এবং এ বিষয়ে হাবিবের মাধ্যমে আমাকে শাসালো সে।

হাবিব ও সৌরভের কাছে সুনীল বললো যে, আমি নাকি বুয়েটের নাম ডুবিয়েছি (‘১৬ সালে উল্টাপাল্টা ইউটিউবিং করার কারণে)। প্রশ্ন হলো, যে কয়জন লোকের কারণে আমি ‘১৬ সালে পাঞ্জেরী ছেড়ে চলে যাই, তাদের মধ্যে সুনীল ছিল কিনা? সে আন্দাজে আমার নামে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল কিনা? আর আমি যদি বুয়েটের নাম ডুবিয়ে থাকি, তাহলে সুনীল, সাঈদ, নাসরিন কীসের নাম ডুবিয়েছে? তারা কি যথাক্রমে রাজশাহী, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডুবিয়েছে? সাঈদ আর নাসরিন কি অস্বীকার করতে পারবে যে, তারা ‘১৬ সালে আমার ইউটিউবিং কন্টেন্ট চুরি করে নি? আর সুনীল বীথির মতো কতগুলো মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে? সেগুলো কি আকাম-কুকাম নয়?

বিথীর চরিত্রে এতোটাই সমস্যা ছিল যে, সে তার পিতার শ্রাদ্ধের দিন এভাবেই ড্রেসআপ করেছিল