প্রচলিত বেশিরভাগ ধর্ম কল্পকাহিনী বা ফিকশননির্ভর

বেশিরভাগ বললাম এই কারণে যে, নাস্তিক্যবাদ নিজেও একটি ধর্ম। তবে এটি এখন পর্যন্ত সত্যতম ও সঠিকতম ধর্ম। নাস্তিক্যবাদ মানে ধর্মহীনতা বা নীতিহীনতা নয়, সত্যিকার একজন নাস্তিক অবশ্যই নীতিবান।

ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, সনাতন, ইহুদীবাদ – এসকল ধর্ম ফিকশন বা কল্পকাহিনীনির্ভর, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং বিজ্ঞান দ্বারা পুরোপুরি অসমর্থিত। মোহাম্মদের মিরাজ, তার অঙ্গুলি হেলনে চাঁদের দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যীশু ঈশ্বরের পুত্র হওয়া, মুসা ও তার অনুসারীদের নীলনদ পার হওয়া, ইব্রাহিমকে আগুনে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও কোনো ক্ষতি না ঘটা, আদমের বেহেশত থেকে বিতাড়িত হওয়া, হনুমান কর্তৃক সম্পূর্ণ পাহাড় কাঁধে করে নিয়ে আসা – এর সবই ফিকশন বা কল্পকাহিনী। 

ভাগ্য ভালো যে, পৃথিবীর সব ফিকশন থেকে এক একটি ধর্মের উদ্ভব হয় নি। তা যদি হতো, তাহলে দেবতা জিউস ও তাঁর পুত্র হারকিউলিসের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে পৃথিবীর বুকে হয়তো আরেকটি ধর্মের উদ্ভব ঘটতো, যে ধর্মের অনুসারীরা কাল্পনিক দেবতা জিউস এবং তাঁর মানবরূপী পূত্র হারকিউলিসকে পূজা করতো। শুধু তাই নয়, না জানি আরো কত শত ধর্মের উদ্ভব ঘটতো এই ধরণীর বুকে! সেটা হলে অবশ্য ভালো হতো। তাহলে ১৮০ কোটি মানুষের ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে মুসলিমরা পৃথিবীজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারতো না। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের ধর্ম বলে ক্রিশ্চিয়ানিটি নিয়ে গর্ব করতে পারতো না খ্রিস্টানরা। 

ফিকশন নির্ভর নয় এরকম ধর্ম অবশ্য আছে দু’ একটি, যেমনঃ বৌদ্ধ ধর্ম। কিন্তু আজ হতে আড়াই হাজার বছর আগে গৌতমবুদ্ধ যে জীবনাদর্শ দিয়ে গেছেন, তার বেশিরভাগই আজ বিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান। বুদ্ধ কেবল একটি জীবনাদর্শের কথা বলে গেছেন, যা অনুসরণ করলে মানবতার মুক্তি মেলা সম্ভব; তিনি কোনো ঈশ্বরের কথা বলে যান নি। অথচ আজ পৃথিবীর বেশিরভাগ বৌদ্ধরা (কাল্পনিক) ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। তাই এই বিকৃত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়েও লাভ নেই। বৌদ্ধ ধর্ম যদি সত্যিই অহিংসার ধর্ম হতো, তাহলে এ ধর্মের অ্যাম্বাস্যাডররা অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা স্বয়ং অকাতরে মানুষ হত্যা করতে পারতো না, মায়ানমারে। 

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্ম, ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিন্দুইজম, ইহুদী – প্রচলিত এ সকল ধর্ম অকেজো এবং অর্থহীন, এগুলো মানব সম্প্রদায়ের আর কোনো কাজে আসবে না। ধর্ম যদি বেছে নিতে হয়, তাহলে সেটি হলো নাস্তিকতা, এটিই মানবতার ধর্ম। কারণ মানুষ হিসেবে পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হলে বিবেক ও বুদ্ধি অপরিহার্য। কোনো বিবেকবান ও বুদ্ধিমান মানুষ কল্পকাহিনী নির্ভর ধর্মগুলোকে সমর্থন করতে পারেন না, সেগুলোর কোনোটিকে অনুসরণ করতে পারেন না।

মুসার অঙ্গুলী হেলনে নাকি এভাবেই সাগরের পানি দু’ভাগ হয়েছিল, ব্যাপারটা পুরোই হাস্যকর। তথাকথিত নবী-রাসূলরা জাদুকর নাকি ‘স্পেশাল’? স্রষ্টাই যদি তাদেরকে স্পেশাল বানিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করে থাকেন, তাহলে তারা ‘সাধারণ’ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন কীভাবে?!

প্রকৃত পাপ বনাম অলীক পাপ

মানুষ হত্যা করা, কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, নিরীহ কারো সাথে ধোঁকাবাজি করা, মানুষের মনে অকারণে কষ্ট দেওয়া, চুরি করা, ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ খাওয়া – এগুলো হলো প্রকৃত পাপ। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাতে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয়, সেটা হলো প্রকৃত পাপ। 

কিন্তু সেক্স করা, হস্তমৈথুন করা, মদ খাওয়া, সুদ খাওয়া – এসব কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয় না, আনলেস আপনি মদ খেয়ে গাড়ি চালান বা মাতলামি করে কারো বিরক্তির কারণ হচ্ছেন। তাই উল্লিখিত কর্মকাণ্ডগুলো প্রকৃত পাপ নয় (যেমনঃ আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে সেক্স করলে এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না), এগুলো হলো অলীক পাপ । অর্থাৎ এগুলো পাপ না হওয়া সত্ত্বেও ধর্ম, সমাজ এগুলোকে ‘পাপ’ বানিয়ে রেখে দিয়েছে। 

সমাজ মূলত চালায় মুরব্বীরা; তাঁরা নিজেরা যখন যৌবনে ছিলেন, তখন বিভিন্ন ধরনের ফূর্তি করেছেন। কিন্তু বয়স হওয়ার ফলে যেই না তাদের যৌনক্ষমতা কমে গেল এবং লিভারে পচঁন ধরায় মদ্যপানের ক্ষমতাও কমে গেল, তখন তারা ইয়াং জেনারেশনকে ফূর্তি করতে ও লাইফ এনজয় করতে দেবেন না – এমনটা বন্ধপরিকর হলেন। তখন তাঁরা ধর্মের দোহাই দিতে লাগলেন।

প্রচলিত ধর্মগুলোর উদ্ভব হয়েছে অসামাজিক টাইপের মানুষের দ্বারা, যেমনঃ মোহাম্মদ, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখ। মোহাম্মদ নিজ সমাজের ছেলেপুলেদের সাথে মিশতে পারতো না, তাদের সাথে মিলে এনজয় করতে পারতো না, তাই সে সবাইকে নিজের মতো করে বানানোর উদ্দেশ্যে ধর্ম আবিষ্কার করেছে। যে এনজয় সে নিজে করতে পারে নি, সেটা সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাউকে করতে দেবে না – এটাই ছিল তার মাস্টারপ্ল্যান। অনাচারের কথা যদি সে বলে, তাহলে বলতে হয় – অনাচার যুগে যুগে সব সমাজেই ছিল, কমবেশি। তাই বলে সমাজচ্যুত হওয়া ঠিক নয়, সমাজচ্যুত হওয়াটাই সবচেয়ে বড় মাপের একটা পাপ।

স্রষ্টার উপাসনা না করাও একটি অলীক পাপ। কারণ আপনি স্রষ্টার উপাসনা না করলে তার তেমন কী ক্ষতি হবে? (যদি সে একজিস্ট করেও)। আর সাধারণ লোকজনেরই বা কী ক্ষতি হবে? তদুপরি, স্রষ্টা যদি থেকেও থাকে, সে উপাসনার এত কাঙাল কেন? আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি দুনিয়াতে আসার জন্য কাউকে রিকোয়েস্ট করি নি, তাই পৃথিবীতে এসে কাউকে উপাসনা করার প্রয়োজন আমার নেই। এবার আপনি নিজে ভেবে দেখুন, আপনি কি কাউকে অনুরোধ করে পৃথিবীতে এসেছেন? মনে হয় না। তাহলে তথাকথিত স্রষ্টার উপাসনা কেন করবেন?

আপনি নামাজ, রোজা না করলে, মূর্তিপূজা না করলে কারো কোনো ক্ষতি হবে না, তাই এই তথাকথিত পাপগুলো হলো অলীক পাপ, অর্থাৎ আদতে পাপ নয়। তাই বলি, যেগুলো প্রকৃত পাপ, কেবল সেগুলো করবেন না, যেমনঃ মানুষ হত্যা করা, মানুষের মনে শুধুশুধু কষ্ট দেওয়া প্রভৃতি। এরকম কয়েকটি প্রকৃত পাপের নাম নিবন্ধের শুরুতেই উল্লিখিত হয়েছে। আর অলীক পাপগুলো করুন, যেমনঃ প্রেম-পরকীয়া-সেক্স করুন, ঘনঘন যৌনসঙ্গী বদলান, হস্তমৈথুন করুন, সুদ খান, উপাসনা তথা নামাজ-রোযা পরিহার করুন ইত্যাদি। তবে লাইফ এনজয় করলেও তা একটু হিসাব করে করবেন। যেমনঃ ঘনঘন যৌনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন সঙ্গী বেছে নিন, যার যৌনরোগ নেই। হস্তমৈথুন করলেও তা স্বল্পমাত্রায় করুন। তাহলে এসকল ‘অলীক’ পাপের জন্য ভবিষ্যতে আপনাকে কখনো ভুগতে হবে না।

ছুরি হলো প্রকৃত পাপ সংঘটনের একটি মোক্ষম অস্ত্র

নাস্তিকদের শেষকৃত্য

যে কয়েকটি বিষয় দিয়ে আস্তিকরা, বিশেষ করে ইসলামী মোল্লারা নাস্তিকদেরকে নাস্তানাবুদ করতে চায়, তার মধ্যে একটি হলো – ‘আপনি কি মরবেন না? তখন কি জাহান্নাম এড়াতে পারবেন? আপনার জানাজা পড়াবে কে? আপনাকে কি কবর দিতে হবে না? তখন তো ঠিকই হুজুরদেরকে লাগবে?’ ইন ফ্যাক্ট, আমাকেও এ ধরনের কথা শুনতে হয়েছে এবং এখনও হয়। প্রতিবেশী এক ধর্মব্যবসায়ী আছে, তারা পারিবারিক সূত্রে এক মসজিদের মালিক। সেখানে আমি নামাজ পড়তে যাই না, তাই এ ধরনের কথা ঐ মসজিদের ইমাম তথা মালিকপক্ষের একজন এবং এলাকার লোকজনের কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে আমাকে।

আর আমার বউ তো অহরহ খোঁটা দেয় সেইম টাইপের কথাবার্তা বলে। সুতরাং বোঝা গেল, শেষকৃত্য ব্যাপারটা নাস্তিকদের জন্য একটি বিব্রতকর ইস্যু। তাই আমি বলি কী – ‘লাগবে না আমাদের, নাস্তিকদের কোনোরূপ জানাজা বা লাস্ট রেসপেক্ট লাগবে না। চলুন, আমরা নাস্তিকরা সবাই আমাদের স্ব স্ব দেহ মরণোত্তর দান করে দেই। অথবা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই, যেখানে লাশ সমাহিত করার জন্য বিশেষ কোনো রীতিনীতি বা আচারের প্রয়োজন হবে না। কেউ যদি মনে করে যে, তাকে মৃত্যুর পর এক কাপড়েই কবরে সমাহিত করা হোক, তবে তাই হবে।’

আর কেউ যদি চায় তবে তাকে তার মনের মতো করে সাজগোজ করিয়ে কবরে সমাহিত করা হবে। বেশভূষা যাই হোক, ইট ডাজন্ট ম্যাটার। কারণ মৃত্যুর পর কোনো চেতনা নেই, কোনো শাস্তি নেই, কোনো সুখও নেই। এটাকে কেবল লম্বা একটা ঘুম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। 

এসব উদ্যোগ নেয়া হলে শেষকৃত্য বিষয়ে আস্তিকদের লাফালাফি এবং ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং অনেকটা কমে যাবে।

বীথির সাথে শুতে আগ্রহী হই নি, তাই…

বীথিকা রাণি মুন্সি, যার নাম বর্তমানে বীথিকা রাণি ঘোষ, …… ঘোষ নামক এক সাংবাদিককে বিয়ে করার পর। এই বীথি বর্তমানে সম্ভবতঃ লেকচার পাবলিকেশন্সে কাজ করে, কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে অথবা পিএমডি’তে। তার সাথে আমার পরিচয় পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে।

আমাকে প্রথমদিন দেখেই সে আমার সাথে শোয়ার প্ল্যান করে। সেটা সে বিভিন্ন অশালীন বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়। যদিও সে দেখতে আকর্ষণীয় ছিল না, তবু তার সাথে শুতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু সে ও সুনীল মিলে আমার নামে এবং আমার রিপোর্টিং বস সাঈদের নামে একটা মিথ্যা কলংক দেয়, আমরা দু’জনে নাকি কৌশলে কোম্পানীর টাকা লোপাট করছি। যদিও এই অভিযোগ আমার চেয়ে সাঈদের গায়ে লেগেছে বেশি, তবুও আমি সাঈদের সাথেই থাকতে বাধ্য হলাম। কারণ এমন একটা অভিযোগের পর আমি যদি আবারও বীথির সাথে মেলামেশা করি, তাহলে সাঈদ আমাকে কৌশলে কাজ দেয়া বন্ধ করে দেবে, বা বেশ কমিয়ে দেবে।

শুধু যৌনকার্য করে তো আর পেট চলে না, তার জন্য টাকাও কামাতে হয়। যাই হোক, বীথি আমার সাথে এমন আচরণ করতে লাগলো যেন, আমাকে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ বা কুৎসা সে রটায় নি। কিন্তু আমি তাকে অগ্রাহ্য করতে, অর্থাৎ এড়িয়ে চলতে বাধ্য হলাম। তখন আমার বয়স ছিল ৩৪, আর বীথির বয়স ছিল ৩৭। আমি তো ২৫ বছর বয়স হতেই বিবাহিত, কিন্তু বীথি তখনো অবিবাহিতা। তার যৌবনজ্বালা তো কাউকে দিয়ে মিটাতে হবে, তাই না? আমার কাছ থেকে সে যখন নেগেটিভ অর্থাৎ না-সূচক রিঅ্যাকশন পেল, তখন এক পর্যায়ে আমার আশা ছেড়ে দিল সে। তখন বীথির বান্ধবী নাসরিন আমার সাথে কারণে-অকারণে খারাপ আচরণ শুরু করলো

অথচ নাসরিন যে টাইপের মহিলা, তাতে বীথির সাথে আমি শুলে, পরে কিছুটা লবিং ও রিকোয়েস্ট খাটালে নাসরিনকেও বিছানায় নিতে পারতাম বলে আমার বিশ্বাস। আবার এমনও হতে পারতো যে, নাসরিন নিজেই হয়তো তার বান্ধবীর শয্যাসঙ্গীর সাথে শুতে আগ্রহী হতো, স্রেফ টেস্ট চেঞ্জ করার জন্য বা চেখে দেখার জন্য।

পাঞ্জেরীর আরএন্ডডি’র তৎকালীন হেড সুনীলও অবিবাহিত ছিল, সে নিজের জন্য বা নিজের এক অবিবাহিত ভাইয়ের জন্য বীথিকে এই ফাঁকে সিস্টেম করে নিল। এটা সুনীলের জন্য খুবই সম্ভবপর ছিল, কারণ একে তো বীথি ছিল তার সাবঅর্ডিনেট, দ্বিতীয়ত উভয়ে একই ধর্মের লোক। আমি অবশ্য এসব খবর পেয়েছি সাঈদের কাছ থেকে।

বীথিকে এক-দেড় বছর ব্যবহার করে সুনীল ও তার ভাই, এ ফাঁকে বীথি ব্যাপক পরিমাণ টাকা রাইটারদের বিলের নামে লোপাট করে, যার হিসাব সে এমডিকে দেখাতে ব্যর্থ হয়। তখন সে হতাশ হয়ে, বিশেষ করে সুনীলের সাপোর্ট না পেয়ে পাঞ্জেরী ছেড়ে লেকচারে চলে যায়। আমার সাথে শুতে ব্যর্থ হওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে শত্রুতার বীজ পাঞ্জেরীতে বপন করে যায়, যেটা তখন নাসরিন বহন করছিল।

২০১৫ সালের শেষের দিকের কথা, তখন পাঞ্জেরীতে বিভিন্ন আজব ক্যারেক্টার ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে একজন ছিল আতিকুর রহমান জোয়ার্দার। সে বুয়েটিয়ান হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মতো বুয়েটিয়ান রাইটারদের বিলের রেট কমিয়ে দিতে তৎপর হয়ে পড়ে। এছাড়া আমার দীর্ঘ সময়ের রিপোর্টিং বস সাঈদ তখন সুযোগ পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে এবং নিজের আলাদা জগৎ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ সে আর আমাকে সাপোর্ট দিবে না। আমিও বুঝতে পারি, এখন পারলে পাঞ্জেরী থেকে চলে যাওয়া উচিত। সে সময় ইউটিউবিং হয়ে পড়ে একটি সুযোগের নাম। আমি অবশ্য ইউটিউবে কোনো কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানাতে পারি নি। অনেকের দেখাদেখি চটিগল্প টাইপ ভিডিও আপলোড শুরু করি। তবে আমি সেটাতে বেশ জনপ্রিয়তা পাই, মূলতঃ দু’টি কারণে। আমি অন্যের কন্টেন্ট চুরি না করে নিজেই কন্টেন্ট বানাতে শুরু করলাম এবং গল্প উপস্থাপনায় আমি বেশ দক্ষ ছিলাম, নিজের ভাষাগত দক্ষতার কারণে।

পাঞ্জেরীর সাঈদ, নাসরিন, প্রুফরিডার সজীব, ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের রিয়াজ এবং আরো অনেকে ইউটিউবে আমার কন্টেন্ট চুরি করে চ্যানেল খুলে আমার মতো টুপাইস কামাচ্ছিল, কিন্তু তাদের অ্যাক্টিভিটি জনগণের অজানা ছিল, তাই তাদেরকে কোনো ব্লেইম শুনতে হয় নি। ব্লেইম শুনতে হয়েছে আমাকে, নিজেই ইউনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েট করার কারণে। আমি উল্টাপাল্টা কন্টেন্ট ক্রিয়েট করেছিলাম ঠিকই, তবে তরুণ প্রজন্মের হাজার হাজার ছেলেকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম যে, ইউটিউবের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সম্ভব। ‘১৬ সালে অ্যাক্টিভ আমার মতো কয়েকজন ইউটিউবারের কারণেই দেশে ইউটিউবিং বিষয়টি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেল এবং দেশ শতশত কোটি টাকা রেমিট্যান্স উপার্জন করতে শুরু করে, যে টাকাটা আগে ইন্ডিয়ায় চলে যেত।

দেশের অর্থনীতিতে আমার এ অবদান কেউ স্বীকার করবে না, সবাই বলবে, ‘আপনি তো খারাপ কন্টেন্ট তৈরি করেছেন।’ যারা আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে চায়, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে, ‘আর আপনি কী করেছেন? আপনি কি কেবল আমার কন্টেন্ট চুরি করে সেটা ইউটিউবে আপলোড করেছেন, আর টুপাইস কামিয়েছেন?’

‘১৬ সালের শেষের দিকে এসব উল্টাপাল্টা ইউটিউবিং এর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, আমি আবার পাঞ্জেরীতে ফিরে আসতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু বাধ সাধলো সাঈদ, নাসরিন, সুনীল – এরা। তখন আমার কাছে অনেক টাকা ছিল ঠিকই, কিন্তু রানিং ইনকাম ছিল অতি নগণ্য। ভবিষ্যতে কীভাবে চলবো, বিশেষ করে আমার বাবা-মা-ছোট ভাইকে নিয়ে যে সংসার সেটা কীভাবে চলবে, সেটা ভেবে আমি সন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম, তাদেরকে তো প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়।

বাড়িভাড়া দেয়ার হাত হতে বাঁচতে গ্রামদেশে এসে আধাপাকা/কাঁচা বাড়ি তুলে এখানে বসবাস শুরু করলাম। কাঁচা কর্দমাক্ত রাস্তাঘাটের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলাম না, অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে এবং অর্থজনিত টেনশনের কারণে আমার ডায়াবেটিস হয়ে গেল।

২০১৭ সালের শেষের দিকে, পাঞ্জেরীতে রাইটার হিসেবে টুকটাক কাজ করছিলাম, কিন্তু সাঈদ সেটা ভালো চোখে দেখতো না। এমন একটা সময়ে ফারহানাহ চৌধুরী নামক বুয়েটের এক মাগি আমার সাথে একটা গেম খেলে, আমার মনমানসিকতা নষ্ট করার গেইম, আমার সাথে ‘প্রেম-পরকীয়া’ করার গেইম। অর্থাৎ সে কৌশলে আমাকে লোভ দেখায়। আসলে তার পরিচিত একজন ছিল, ঋষিত নামে – এই ছেলেটিকে আমার ব্লগে লেখালেখির সুযোগ দেই নি, তাই। ঋষিত ছিল কপি পেস্ট টাইপের লেখক, ইউনিক কন্টেন্ট লিখতে পারতো না সে, তাই কেবল ফারহানাহ’র সুপারিশের কারণে তাকে লেখালেখির মাধ্যমে আমার কষ্টার্জিত টাকাগুলো দেয়ার কোনো মানেই ছিল না।

তাই ফারহানাহ আমার সাথে নাটক করে, আমার আশাগুলো উত্তোলিত করে পরে চূড়ান্ত রকম হতাশ করে, এটা এক রকম গেইম। সেটা ছিল ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাস। আমার বদ্ধমূল ধারণা হলো, ফারহানাহ না হোক, অন্য কোনো মেয়েকে ম্যানেজ করতেই হবে আমাকে, প্রেম/পরকীয়া’র জন্য। এজন্য প্রথমে নক করি ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টের শাহিনূরকে। মেয়েটি ‘১৫ সালে একবার আমার সাথে কফি খেতে যেতে চেয়েছিল, প্লাস তার চাউনির মধ্যে সে সময় ‘ভালোলাগা’ দেখতে পেয়েছিলাম। প্রায় আড়াই-তিন বছর পর যখন নিজেই তাকে ভালোলাগা’র কথা বলতে গেলাম, খেলাম ফেসবুকে ব্লক। গেল মাথা আউলা হয়ে।

অসুস্থ মাথায় ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের আরেকজনকে অর্থাৎ নাসরিনকে যৌনতার প্রস্তাব দিয়ে বসলাম। কারণ বীথির মতো চরিত্রহীন মহিলার সাথে ওঠাবসা করায় নাসরিনের প্রতি আমার ইম্প্রেশন বা মনোভাব ভালো ছিল না। প্লাস, সে নিজেও আমার সাথে কয়েকদিন খারাপ ব্যবহার করেছে, যার প্রতিকার সাঈদ করতে পারে নি, সম্ভবতঃ সাঈদ আগেই নাসরিনকে দৈহিকভাবে ব্যবহার করায়, তার কাছে জিম্মি ছিল।

আমি তখনকার দিনে, অর্থাৎ ‘১৮ সালে পাঞ্জেরীর ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করতাম। আগেও ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করতাম। ‘১৬ সালের শুরুতে পাঞ্জেরী থেকে বিরক্ত হয়ে চলে যাওয়ার যে কয়টি কারণ ছিল, তার মধ্যে একটি হলো – মিথ্যেবাদী আতিকুর রহমান জোয়ার্দার এবং শত্রুমনোভাবাপন্ন রাজুর সুপারভিশনে কাজ করতে হবে, তাই। প্লাস, অক্ষম এবং নিজেকে গোটাতে চাওয়া সাঈদ তখন আমাকে ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে কাজের অফার দিয়েছিল। দু’তিন বছর ধরে সংগ্রাম করে ফিজিক্সটা যখন আয়ত্ত্বে আনলাম, তখন নাকি ফিজিক্স ছেড়ে এবার ম্যাথে মনোনিবেশ করতে হবে, হাও আনপ্রফেশনাল!

যাই হোক, ‘১৮ সালে ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে একজন এক্সিকিউটিভ ছিল আরিফুল ইসলাম, তাকে শাহিনূর এবং নাসরিন মিলে ‘ছোটভাই’ বানিয়ে আমাকে দেখে নেয়ার অ্যাসাইনমেন্ট দেয়। সে কারণে এবং নিজে নরসিংদীর লোক হওয়ার কারণে আরিফ শুরু থেকেই আমার পিছনে লেগে ছিল (নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং উত্তর কুমিল্লার লোকদের আচরণগত সমস্যা ব্যাপক)। বুয়েটের পাঁচজনকে স্যাক করার পর সুনীল ব্যাপক চাপে পড়ে গেল এবং কোয়ালিটিসম্পন্ন লোক পাচ্ছিল না বিধায় ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের জন্য আমাকে রিক্রুট করে, বিষয়টি আরিফ, শাহিনূর এবং নাসরিন ভালোভাবে নেয় নি। তারা আমাকে উৎখাতে তৎপর হয়ে পড়ে। তাদের তৈরি করা প্রেশারের কারণে সুনীলও আমার পিছনে লাগতে বাধ্য হয়। যদিও আমি নিশ্চিত যে, আমাকে রিক্রুট করার আগে থেকেই শাহিনূর এবং নাসরিনকে পাঠানো আমার মেসেজের বিষয়ে সুনীল জানতো, তারপরও সে অভিনয় করলো যে, বিষয়টি সে আগে থেকে জানতো না এবং এ বিষয়ে হাবিবের মাধ্যমে আমাকে শাসালো সে।

হাবিব ও সৌরভের কাছে সুনীল বললো যে, আমি নাকি বুয়েটের নাম ডুবিয়েছি (‘১৬ সালে উল্টাপাল্টা ইউটিউবিং করার কারণে)। প্রশ্ন হলো, যে কয়জন লোকের কারণে আমি ‘১৬ সালে পাঞ্জেরী ছেড়ে চলে যাই, তাদের মধ্যে সুনীল ছিল কিনা? সে আন্দাজে আমার নামে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল কিনা? আর আমি যদি বুয়েটের নাম ডুবিয়ে থাকি, তাহলে সুনীল, সাঈদ, নাসরিন কীসের নাম ডুবিয়েছে? তারা কি যথাক্রমে রাজশাহী, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডুবিয়েছে? সাঈদ আর নাসরিন কি অস্বীকার করতে পারবে যে, তারা ‘১৬ সালে আমার ইউটিউবিং কন্টেন্ট চুরি করে নি? আর সুনীল বীথির মতো কতগুলো মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে? সেগুলো কি আকাম-কুকাম নয়?

বিথীর চরিত্রে এতোটাই সমস্যা ছিল যে, সে তার পিতার শ্রাদ্ধের দিন এভাবেই ড্রেসআপ করেছিল   

নাস্তিকদের সম্পর্কে জনগণের একটি ভুল ধারণা

নাস্তিকদের সম্পর্কে জনগণের একটি ভুল ধারণা রয়েছে, আর সেটি হলো – যেহেতু নাস্তিকদের ‘ঈমান’ নেই, তাই তাদের কোনো বিবেকও নেই, তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। আদতে ব্যাপারটা তা নয়; নাস্তিকরাও মানুষ, তারাও সামাজিক জীব। সমাজে ও রাষ্ট্রে অবস্থান করতে হলে অন্য সবার মতো তাদেরকেও কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। সুতরাং নাস্তিকদের বিবেক নেই – এ কথাটি সত্য নয়।

নাস্তিকরা খুবই ভয়ংকর এবং এদের বুক-পিঠ নেই, অর্থাৎ যেকোনো সময় যে কারো ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে – এটিও ভুল ধারণা। বরং সত্য হলো এই যে, নাস্তিকদের বিবেকের স্ট্যান্ডার্ড সাধারণের তুলনায় অনেক উপরে। সাধারণ মানুষ অর্থাৎ আস্তিকেরা যে লোভটা হয়তো সামলাতে পারবে না, একজন সত্যিকার নাস্তিক সেটাও সামলাতে পারবে। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা আস্তিক না নাস্তিক তারা নিজেরাও জানে না। এরা সুবিধাবাদী, অর্থাৎ নিজেকে কখনো আস্তিক, কখনো নাস্তিক পরিচয় দেয়। যেমনঃ নিজের বোনের বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত এরা চরমমাত্রায় নামাজি বা ধার্মিক। আর বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই এরা স্বরূপে ফিরে যায়, অর্থাৎ নিজের স্বার্থের জন্য এরা তখন যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত, লাজ-শরমের মাথা খেয়ে হলেও। 

এ ধরনের লোকই এক্সপেরিমেন্ট বা ফ্যাশন করার জন্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদেরকে নাস্তিক পরিচয় দিয়ে আকাম-কুকামে মেতে ওঠে, অর্থাৎ চরম নীতিহীনতার পরিচয় দেয়। এদের কর্মকাণ্ড দেখেই সাধারণ জনগণ নাস্তিকদের প্রতি বিষিয়ে ওঠে। প্রকৃত সত্য হলো এই যে, একজন সত্যিকার নাস্তিক অতি প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে দু’-একটা মিথ্যা বললেও বা ছোটখাট অপরাধ/ত্রুটি করে ফেললেও সে ‘চরম নীতিহীনতা’র পরিচয় কখনোই দেবে না। তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে সর্বদাই একটা লিমিট থাকবে, যে লিমিট সবার মনে একটা মুগ্ধতা তৈরি করবে। তবে কেবল নাস্তিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো লোকজন তাকে কিছুটা বাঁকা চোখে দেখতে পারে। আফটার অল, বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নাস্তিক হওয়া এবং নাস্তিক হয়ে টিকে থাকা সত্যিই কষ্টসাধ্য।

নাস্তিকদের বিবেকের স্ট্যান্ডার্ড কী কারণে সাধারণের উপরে, এবার সেটা ব্যাখ্যা করি। আগেই বলেছি, সত্যিকার নাস্তিক হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, এটা সাধনার ব্যাপার। কেবল নাস্তিক বলেই অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না বলেই একজন মানুষ ক্রমাগত অপরাধ করে যেতে পারে না। প্রতিটি অপরাধ মানুষকে অনুশোচনায় ফেলে। তবে আস্তিকদের জন্য অপরাধ করা সহজতর। যেমনঃ মুসলিমরা মনে করতে পারে, ‘আমি অপরাধ করে যাই, মৃত্যুর আগে তওবা করে নিয়ে ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে যাব। তবেই তো বেহেশতে যেতে পারব।’ 

তবে নাস্তিকদের জন্য অপরাধ করাটা এত সহজ নয়। নাস্তিকদের চালিকাশক্তি কোনো ধর্মগ্রন্থ বা কিতাব নয়, তাদের চালিকাশক্তি হলো – নিজস্ব বিবেক। আস্তিকেরা যেখানে অন্ধভাবে অনুসরণ করে যায় বিভিন্ন কিতাবকে, লোকজনের কাছ থেকে শোনা কথাকে এবং প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য আস্তিককে, সেখানে একজন সত্যিকার নাস্তিক সর্বদা নিজের বিবেকের চর্চা করে যায়। সে নিজের বিবেককে ক্রমাগত জিজ্ঞেস করতে থাকে, কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক। এটি করতে গিয়ে কখনো কখনো সে জাজমেন্টে ভুল করে ঠিকই, তবে একসময় সৎ ও সঠিক কাজ করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়। তাই একজন  নাস্তিক একজন গড়পড়তা আস্তিকের চেয়ে বেশি বিবেকবান।

সেলিম খান সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন কি?

সালমান খানের পিতা হিসেবেই অধিক পরিচিত সেলিম খান। তিনি অল্প কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও একজন চিত্রনাট্যকার হিসেবে বলিউডে সমধিক পরিচিত। তিনি চারজন সন্তান জন্ম দিয়েছেনঃ বড় পুত্র সালমান খান, মেঝো পুত্র আরবাজ খান, ছোট পুত্র সোহেল খান এবং একমাত্র আপন কন্যা আলভিরা। এছাড়া সেলিম খান এবং তাঁর তৎকালীন স্ত্রী একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন, যার নাম রাখেন অর্পিতা খান।

সেলিম খান একসময় জাভেদ আখতারের সাথে মিলে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন। সে সময় সেলিম ছবির কাহিনী ও চরিত্রসমূহ পরিকল্পনা করতেন এবং জাভেদ সংলাপ লিখতেন।

সেলিম খান ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক স্বচ্ছল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদা আফগানিস্তান হতে ভারতে মাইগ্রেশন করেছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন মধ্যপ্রদেশের ‘ইন্দোর’ নগরীতে পুলিশের ডিআইজি। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয়রা পুলিশে এর চেয়ে বেশি উচুঁ পদে যেতে পারতেন না। সেলিম খানের যখন ১৪ বছর বয়স তখন তাঁর পিতা মারা যান। এরও ৫ বছর আগে তাঁর মা মারা যান। সেলিম খানের মা মারা যাওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর যক্ষ্মায় ভুগেছিলেন। এজন্য ছোটবেলাতেই কখনো নিজ মায়ের কাছে যেতে পারতেন না সেলিম খান এবং তাঁর ভাইবোনেরা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সেলিম ছিলেন তাঁর পিতামাতার কনিষ্ঠ সন্তান।

প্রথমে মা এবং পরে বাবা মারা যাওয়ার পর সেলিম খানের দেখাশোনা করতেন তাঁর বড় ভাইয়েরা, সে বিষয়ে কোনো অবহেলা হয় নি; কারণ তাঁদের পিতা প্রচুর ধনসম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। সেলিম যখন কলেজে পড়তেন, তখনই তাঁকে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন বড় ভাইয়েরা।

জাভেদ আখতারের সাথে সম্মিলিতভাবে তিনি ছয়টি ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার অর্জন করেন। এছাড়া পরবর্তীতে সেলিম খান ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কার লাভ করেন, যেটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পুরষ্কার।

কলেজে পড়ার সময় সেলিম খান একজন ভালো খেলোয়াড় ছিলেন (ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কলেজ বলা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে যেটা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সেটা ভারতে শুধু ‘কলেজ’)। ভালো খেলোয়াড়, বিশেষ করে ভালো ক্রিকেটার ছিলেন বলেই ডিগ্রীতে তেমন একটা ভালো রেজাল্ট না করলেও তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান (অর্থাৎ খেলোয়াড় কোটায়)।

এবার সেলিমের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলা যাক। তিনি দুটি বিবাহ করেছেনঃ তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম সুশিলা চরক, অর্থাৎ তিনি বিয়ের আগে হিন্দু ছিলেন এবং বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সালমা খান নাম ধারণ করেন। সালমান খানের এই মা ১৯৭৪ সালে মারা যান, যখন সালমানের বয়স মাত্র ৯। এরপর ১৯৮১ সালে সেলিম খান দ্বিতীয় বিবাহ করেন, হেলেন অ্যানি রিচার্ডসন নামক এক নারীকে, যিনি বিয়ের আগে থেকে শুরু করে অদ্যাবধি খ্রিস্টান। সৎ মায়ের সাথে সালমান খানদের বেশ ভালো সম্পর্ক।

এবার সেলিম খান সম্পর্কে একটি মজার ঘটনা বলা যাক। আপনি জানেন কি, সেলিম খান বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একজন বিরাট ফ্যান বা ভক্ত? তিনি নজরুলের প্রতিটি কবিতা পড়েছেন। গত বছর সালমান খান যখন ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে বাংলাদেশে একটা অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসেন, তখন সালমান দর্শকদের সামনে জানান যে, তাঁর পিতা সেলিম খান নজরুলের একজন বিশাল ভক্ত। এবং এই তথ্যটি বাংলাদেশের লোকজনকে জানাতে সালমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর পিতা সেলিম খান।

প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের ভূমিকা এইরূপ হতে পারে…

ঈশ্বর যদি সব জীবের সৃষ্টির পেছনে থাকেন, তবে তিনি খুব সম্ভবত সেই সুদূর অতীতে এককোষী জীবকে সৃষ্টি করেছেন, বা তাঁর কারিশমায় সেটা সম্ভব হয়েছে। এরপর সেই এককোষী জীবকে বংশবিস্তার ও বিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ফলশ্রুতিতে সেই এককোষী জীব থেকেই লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের দ্বারা আজকেের দুনিয়ায় হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ প্রাণী ও উদ্ভিদের আবির্ভাব ঘটেছে।

ঈশ্বর যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তাঁর চিন্তাভাবনা এমন হওয়া উচিত নয় যে, তাঁর উপাসনা করলেই বেহেশত বা স্বর্গ পাওয়া যাবে, আর তাঁকে এড়িয়ে চললেই নরক। ঈশ্বর হয়তো হাজার হাজার জীবের উৎপত্তির পিছনে রয়েছেন, কিন্তু তিনি তাঁর সৃষ্টিগুলোকে ভালোবাসেন – এমনটা বলা যাবে না। কারণ দুনিয়াতে প্রতিটি জীবই প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বিপদ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, ঈশ্বর এসে তাদেরকে ‘উদ্ধার’ করছেন না। ব্যাপারটা এমন যেন, ঈশ্বর মহাবিশ্ব ও প্রাণীকূল সৃষ্টি করে এখন কেবল তাদের তামাশা দেখছেন। এ ধরনের ‘তামাশা দেখতে থাকা’ ঈশ্বরের উপাসনা করার প্রয়োজন নেই, যদিও বা তিনি আদতে আমাদের অর্থাৎ মানবজাতির কাছ থেকে উপাসনা প্রত্যাশা করে থাকেন।

নাস্তিকতা আসলে কী?

নাস্তিকতা মানে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসহীনতা নয়, বরং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে প্রচলিত মতবাদগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ আবশ্যক, কারণ প্রচলিত ধর্মগুলো সব কম-বেশি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। নাস্তিকতার প্রকৃত মানে – ‘ঈশ্বর একজন থাকতে পারেন, তবে তিনি ইসলামে বর্ণিত আল্লাহ নন, বা খ্রিস্টধর্মের যীশু নন, এছাড়া হিন্দু ধর্মের ভগবানও নন।’ 

প্রচলিত ধর্মগুলো এই কারণে ভুয়া যে, সেগুলো মানব সম্প্রদায়ের বিগত কেবল ৫০০০ বছর বা ১০০০০ বছরের ইতিহাস পর্যলোচনা করে। কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানব (Homo Sapiens) জাতির ইতিহাস প্রায় ২ লক্ষ বছরের। এর আগেও মানুষ ছিল, তবে তারা অতটা বুদ্ধিসম্পন্ন ছিল না, তারা অনেকটা ‘বন মানুষ’ বা গরিলা টাইপের ছিল, বুদ্ধিশুদ্ধিও ছিল ঐ লেভেলের।

ধর্মগুলো ভুয়া হওয়ার আরেকটি কারণ হলো – এরা এভোলুশন বা বিবর্তনবাদকে স্বীকার করে না। প্রচলিত ধর্মসমূহের মতে, মানুষকে ঈশ্বর বা ভগবান অলৌকিকভাবে সৃষ্টি করেছেন – যেটা আদতে সত্য নয়। মানুষ রাতারাতি বা অভারনাইটে সৃষ্টি হয় নি, যুগ যুগ ধরে প্রাণীর বিবর্তনের মাধ্যমে মানব সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখনো বিবর্তিত হচ্ছে, যার প্রমাণ হলো – মানুষরূপী অমানুষেরা জঘন্য কাজকর্ম করে চলেছে দুনিয়াজুড়ে। এ ধরনের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেটা প্রমাণ করে যে – এখনো মানুষের বিবর্তন চলছে। বস্তুত প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য মানুষ বিবর্তিত হয়ে দিনদিন আরো নির্মম ও পাষাণ হয়ে যাচ্ছে, তাদের বিবেকবোধ কমে যাচ্ছে, মূল্যবোধ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।

প্রচলিত ধর্মগুলো ভুয়া হবার আরেকটি কারণ হলো, এরা বিজ্ঞানের কোনো শাখাকেই ঠিকমতো বা যথোপযুক্তভাবে সমর্থন করে না। যেমনঃ বেশিরভাগ ধর্মই বেহেশত-দোযখ, স্বর্গ-নরকের কথা বলে। এ টার্মগুলো পদার্থবিজ্ঞান বা ফিজিক্সের ‘ভর-শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি’কে সমর্থন করে না। বেহেশতে গিয়ে মানুষ যা চাইবে, তাই পাবে – এমনটা হতে পারে না।

বুয়েট অলাদের হাহা রিয়্যাক্ট আর মুসল্লীদের ছোড়া ঢিল

কিছুদিন আগে বুয়েটের কতিপয় টিচারের অশোভন আচরণ আর অশিক্ষকসুলভ মানসিকতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম এই ব্লগে। বুয়েটের টিচারদের বিরুদ্ধে এবং বুয়েটে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে লেখার ইচ্ছে আমার অনেক দিন। কিন্তু মোক্ষম কোনো অকেশন না আসায় সেটা করা হয়ে উঠে নি। তবে সম্প্রতি ‘বুয়েটের গল্প’ নামক একটি প্রাইভেট ফেসবুকে গ্রুপে মেম্বার হয়েছিলাম। সেখানে পাবলিশ করার উদ্দেশ্যেই নিবন্ধটা লিখেছিলাম। কারণ সেখানে প্রায় ৯০০০ মেম্বার। আমি চেয়েছিলাম যাতে এই প্রাক্তন বুয়েটিয়ানরা জানুক, তাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান দোষত্রুটি মুক্ত নয় এবং সেগুলো নিয়ে মুখ খোলার মতো সাহস কারো না কারো আছে। নিবন্ধটা অনেকে পড়েছিল, প্রায় ২৫০০ পাবলিক। এদের বেশিরভাগই পোস্টে কোনো লাইক বা রিয়্যাক্ট দেয় নি৷ লাইক পড়েছিল প্রায় ৫০টি আর হাহা রিয়্যাক্ট দিয়েছিল ৭০-৮০ জন লোক। মজার ব্যাপার হলো, ব্লগে নিবন্ধের শুরুতে নিম্নে দেখানো একটা জিনিস আসে, যেটা লাইকের মতো দেখালেও সেখানে আসলে লাইক+শেয়ার+অন্য যেকোনো রিয়্যাক্ট একিউমুলেটেড হয়। ফলে নতুন কারো কাছে মনে হতে পারে যে, নিবন্ধটি হয়তো ১২৯টা লাইক পেয়েছে, যদিও ব্যাপারটা তা নয়। যাই হোক, বিষয়টি আমার কাছে খুব উপভোগ্য ছিল। তারা যতই হাহা রিয়্যাক্ট দিচ্ছিলো, আমি প্রকারান্তরে ততই খুশি হচ্ছিলাম। নেগেটিভ হোক আর পজেটিভ, পাবলিসিটি তো হচ্ছে।

১২৯টা লাইক, ক্যান ইউ বিলিভ দ্যাট?

বিষয়টিকে তুলনা করা যায় – আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদটা আছে, সেখানকার মুসল্লীদের ছোড়া ঢিলের সাথে। তারা ঢিল ছোড়ে বেশ কয়েকটি কারণে (১) আমি মসজিদে নামাজ পড়তে যাই না (২) এলাকায় বলতে গেলে আমিই সবচেয়ে স্বচ্ছল, বাকি সবাই হয় ফকিন্নি নয়তো অশান্তির পরিবার থেকে এসেছে।  তারা হলো লেজকাটা শিয়ালের মতো। নিজেরা যেহেতু শান্তিতে নেই, আছে অভাব আর কষ্টে; তাই আমাকেও তারা ‘মিজারেবল’ অবস্থায় দেখতে চায়।

যাই হোক, তাদের যদি মজা লাগে তবে ঢিল ছুড়ুক। যেহেতু তারা ইসলামের নামে এই কাজটা করছে, তাই আমি বরং ইসলামেরই ক্ষতি করে দেব; বিভিন্ন মানুষের কাছে ইসলামের স্বরূপ খুলে দেব, তাদের তথাকথিত ‘ঈমান’ নষ্ট করে দিব, তাদেরকে নাস্তিকতার পথে নিয়ে আসবো। এক কথায়, ইসলামের ‘বারোটা’ বাজিয়ে দেব। অর্থাৎ বুয়েট অলারা যেমন আমার উক্ত পোস্টে হাহা রিয়্যাক্ট প্রদানের দ্বারা পরোক্ষভাবে তাদের সাধের ইন্সটিটিউশনের সুনামের ক্ষতি করার ব্যবস্থা করছে, ঠিক তেমনি প্রতিবেশী মুসল্লীরাও আমাকে উত্ত্যক্ত করার মাধ্যমে তাদের প্রিয় ধর্মের ভাবমূর্তির ক্ষতি করার ব্যবস্থা করছে।

অবস্থাদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে,দাড়ি-টুপিই হলো বর্তমানে সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি।

বিএনসিসি ইজ স্টিল বেটার – পর্ব ১

যশোরে একটি এতিম বাচ্চার অটোরিকশা ছিনতাই করে তাকে ছুরিকাঘাত করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ধরনের ঘটনা বিএনসিসিতে (বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর) ঘটে না বললেই চলে। তাই বলি, বিএনসিসি ইজ স্টিল বেটার।

অবশেষে মারা গেল শাহিন মৃত্যুর আগে স্পষ্ট চিৎকার দিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলো ছেলেটি। কিন্তু ভেতরে ধীরে ধীরে নিথর হয়ে যাওয়া শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়েও সে বলতে পারেনি।সে হয়তো বলতে চেয়েছিলো এই সমাজকে,আমি অভিশাপ দিচ্ছি। সে হয়তো স্রষ্টাকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলো, পৃথিবীতে পাঠাবে যখন এই রকম বিচার না পাওয়া সমাজে কেন পাঠিয়েছো
যে সমাজে ভিক্ষুকের টাকা ছিনতাই হয়।
প্রকাশ্যে রাস্তায় ফিল্মি স্টাইলে মানুষকে কুপিয়ে মারা হয়।
প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধা।
প্রতিটি খাবার ভেজাল মিশ্রিত।
শিক্ষকের কাছে ছাত্রী নিরাপদ নয়।
এ কেমন সমাজ
নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতে ঘৃণা হচ্ছে। এই সমাজ আর মানুষ হয়ে উঠলোনা।মানুষগুলো আর মানুষ হলোনা। আমি আপনি অমানুষই থেকে গেলাম।
কর্ম ব্যস্ততার পর ফেইসবুকে আসা মাত্র স্ক্রোলিং করতে করতে হঠাৎ ছবি দুটো চোখে পড়লো।
যশোরের কেশবপুরের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে মা, ছোট ভাই, বোনকে নিয়ে বসবাস করতো ছেলেটি। বয়স ১২ কি ১৩, একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে মা আর ছোট দুটো ভাই বোন নিয়ে কোন রকম চলে যেতো। মাদকসেবি কিছু বখাটে তার রিকশাটিকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে চাইলে ছেলেটি বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম করে।। পৃথিবী সমান কষ্ট পেয়ে পেয়ে ছেলেটি মারা যায়
আশা করি সবাই পোস্টটা শেয়ার করবেন ।